হৃদরোগে প্রাণ গেল ২১ কোটির সুলতানের!

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

দাম ছিল ২১ কোটি টাকা। দুধ-ঘি তো খেতই।


রোজ সন্ধ্যে হলে চলতো সুরাপানও! হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ‘সুলতান’র।
না, এই সুলতান কোনও ব্যক্তি নয়। হরিয়ানার একটি মহিষ। নিছক একটি মহিষ বলে ভেবে বসলেও ভুল হবে। হরিয়ানাসহ গোটা দেশে পরিচিত ছিল সুলতান।

পুরো নাম সুলতান ঝোটে। হরিয়ানার এই মহিষ সংবাদের শিরোনামে এসেছিল তার দামের জন্যই। দাম উঠেছিল ২১ কোটি। সেই সুলতানের হঠাৎ করে হৃদরোগে মৃত্যু হওয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে হরিয়ানায়।

সুলতানের মালিক নরেশ বেনিওয়াল। হরিয়ানার কৈথলের বুড়াখেড়া গ্রামের বাসিন্দা। খুব ছোট থেকেই সুলতানের লালন-পালন করছেন নরেশ। সুলতান ছিল তার সন্তানের মতো। দেশি ঘি আর দুধ ছিল সুলতানের খাদ্য। শুধু তাই নয়, ৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং দেড় টন ওজনের সুলতান একদিনে ১০ কেজি দুধ, ২০ কিলো গাজর, ১০ কিলো সবজি এবং ১২ কিলো পাতা খেত। তবে আরও একটা নেশা ছিল সুলতানের। সন্ধ্যা হলে মদ্যপান করতো।

কিন্তু কেন এত দাম, কেনই বা এত পরিচিতি সুলতানের?

শুধু হরিয়ানা বা পঞ্জাবই নয়, যেখানে পশু মেলা হতো, সেখানেই সুলতান তার গুণের জন্য পুরস্কার জিততো। ২০১৩-তে সর্বভারতীয় পশু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ঝাঝর, কারনাল এবং হিসারে সেরার পুরস্কার জিতেছিল সুলতান।

সুলতানের এত চাহিদার কারণ? সুলতানের সিমেন (বীর্য) বিশাল চাহিদা ছিল। তার মালিক নরেশের দাবি— সুলতানের সিমেন বিক্রি করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করতেন তিনি। বছরে সুলতানের ৩০ হাজার ডোজ সিমেন বিক্রি হতো। প্রতি ডোজের দাম ৩০৬ টাকা। আর এ কারণেই সুলতানের দাম এত বিপুল ছিল। রাজস্থানের পুষ্কর পশুমেলায় সুলতানের দাম উঠেছিল ২১ কোটি টাকা।  

কিন্তু তার মালিক নরেশ জানান, সুলতান তার সন্তানের মতো। যে কারণে বিপুল দাম পেয়েও বিক্রি করেননি।