চোখ, চোখের বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার

Online Desk Aminul Online Desk Aminul
প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২১

করতোয়া অনলাইন সংস্করণ ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ÔDaily karatoa'q প্রতি বুধবার প্রচার হচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আমাদের স্বাস্থ্য’ । গত সপ্তাহে চোখ, চোখের বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষঞ্জ ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ লোকমান হোসেন। দৈনিক করতোয়ার সাপ্তাহিক আয়োজন ‘স্বাস্থ্য কথা'য় ওই আলোচনার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।
ডাঃ লোকমান হোসেন: বাচ্চাদের চোখের যে সমস্যাগুলো হয়, সেগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন।
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ সাধারণত দেখা যায় যে বাচ্চা হওয়ার ৫-৭দিনের মধ্যে অনেক বাচ্চার চোখের পানি পড়া বা চোখে ময়লা জমা সমস্যা দেখা দেয়। যেসব বাচ্চা ৪০ সপ্তাহের আগে জন্মে তাদের এসব সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও ইনফেকশনজনিত সমস্যার কারণেও এসব সমস্যা হতে পারে। এসব রোগকে কঞ্জাংটিভাল বা ল্যাকরিমাল অবস্ট্রকশন বলে থাকি। এই রোগে বাচ্চাদের নেত্রনালীটা পরিপূর্ণভাবে তৈরি হয় না। বা এখানে একটা ম্যামরিনিয়াস ব্লক টাইপের থাকে। চোখে যে পানিটা জমা হয়, সেটা যাওয়ার জন্য চোখের কর্ণারে সূক্ষè একটি নালী আছে। ওই নালী দিয়ে নাকের ভিতরে চলে যায়। এই নালীটা তৈরি না হওয়ার জন্য এসব বাচ্চাদের চোখে পানি বা ময়লা জমে থাকে। তো সে ক্ষেত্রে আমরা বাচ্চাদের চোখের এ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ বা এক ধরণের বিশেষ চিকিৎসা ম্যাসেজ দিয়ে থাকি এর মাধ্যমে বাচ্চাদের চোখ ভালো হয়।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ ছোট বাচ্চাদের চোখের যত্নটা আসলে আমরা কীভাবে নেব?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ ছোট বাচ্চাদের জন্মের পর থেকেই পরিস্কার জায়গায় রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ার সময় দুধ পড়া বা বাইরে থেকে ইনফেকটেড না হয় সেদিকে খেলায় রাখতে হয়। আবার ডেলিভারীর সময়ও বাচ্চার চোখে আঘাত লেগে বাচ্চার চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বা চোখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। একটু বড় হতে বাচ্চার পুষ্টির দিকেও খেলায় রাখতে হবে। প্রথম অবস্থায় বাচ্চা একই রকম দেখে না।সাধারণত তিন মাস বা ছয় মাসের মধ্য প্রথম মাইল স্টোন ধরা হয়। এসময় মায়ের খেখলায় রাখতে হবে যে তার সন্তানটি ঠিকমত খেলনাগুলো দেখতে পারছে কী না। মায়ের দিকে তাকায় কী না, হাসে কী না সেদিকে খেলায় রাখতে হবে।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ এক্ষেত্রে কোন সন্দেহ দেখা দিলে কী করতে হবে?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ দ্রুত বাচ্চাকে কোন চক্ষু বিশেষঞ্জকে দেখাতে হবে।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ একটু বড় হলেই দেখা যায় বাচ্চা খাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে মায়েরা মোবাইলসহ বিভিন্ন গ্যাজেট বাচ্চাদের হাতে দেয় বা টিভি ছেড়ে দিয়ে খাওয়ায়। গ্যাজেটের কারণে বাচ্চাদের কী ধরণের চোখের ক্ষতি হয়?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ এই ধরণের গ্যাজেট ব্যবহারে বাচ্চাদের চোখের বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হয়। রেডিয়েশনজনিত চোখের ক্ষতি হয়। তাছাড়া যে বাচ্চা সারাদিন চোখের সামনে কম্পিউটার বা মোবাইল ধরে থাকে তাদের চোখের দুরের দৃষ্টির একটি সমস্যা দেখা দেয়। একনাগারে বাচ্চারা যখন এসব দেখে তখন সাধারণত তাদের চোখের পলক পড়ে না। এক মিনিটে সাধারণত ১২ থেকে ১৮বার চোখের পলক ফেলতে হয়। যেসব বাচ্চার চোখের সামনে সবসময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভি থাকে তাদের মিনিটে ৫ থেকে ৭ বার চোখের পলক পড়ে। এদের পানি শূন্যতার জন্য চোখের মনিতে এক ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এসব বাচ্চাদের মোবাইল বা কম্পিউটারের প্রতি আসক্তি কমিয়ে খেলাধুলার প্রতি মনোযাগেী করে তুলতে হবে।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ চোখের এ্যালার্জি বা চোখের ভিতরে খচখচ বা চুলকাতে থাকে এর কারণ ও প্রতিকার কী?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ এই রোগ সব বয়সীদের হতে পারে। সাধারণত আমাদের বডি একটা হাইপার সেনসেটিভি রিএ্যাকশনের মধ্য দিয়ে যায়। অনেক কারণেই এ রকম হতে পারে । খাদ্যের মাধ্যমে আসতে পারে। ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, কচু শাক, পুঁই শাক এসব খেলে এ্যালার্জি বেড়ে যায়। চোখ চুলকায়, লাল হয়, ফুলে যায় খচখচ করে। তবে এটা যদি বার বার হতে থাকে তখন অনেক ভোগান্তি হয়। যাদের এ ধরণের খাবার মাধ্যমে এ্যালার্জি হয় তারা এই ধরণের খাবারগুলো পরিমাণমত খেতে বা এড়িয়ে চলতে পারেন। এছাড়া অনেকের কোল্ড বা ডাস্ট এলার্জি থাকে। ডাস্ট এলার্জি যাদের থাকে তারা ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে হবে। রোদে গেলে রোদ চশমা পড়তে হবে। এতকিছু করার পরও যদি ভালো না হয় সেক্ষেত্রে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ অত্যন্ত কমন একটি অসুখ চোখ ওঠা। এই রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে একটু বলুন।
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ চোখ ওঠা এটা এ্যালার্জি বা ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল কনজিংভাটিসের কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত ভাইরাল কনজিংভাটিসের কারণেই হয়ে থাকে। এটা সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো হয়ে থাকে। রোগী প্রথমঅবস্থায় আসেন চোখ লাল হয়ে গেছে, খচখচ করছে, পানি পড়ছে। দেখার সমস্যা সাধারত চোখ ওঠায় হয় না তারপরেও হতে পারে।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ চোখের আঞ্জনী ওঠা কেন হয় এবং চিকিৎসা কী?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ এটি একটি কমন রোগ। ষ্ট্যাফাফোকাল ইনফেকশনের মাধ্যমে হয়। চোখের যে গ্রন্থি আছে সে গ্রন্থিগুলোর মাধ্যমে এটি হয়। সাধারণঃ যাদের চোখের দৃষ্টির সমস্যা রয়েছে তাদের এটি হয়। বিশেষ করে যারা দুরে কম দেখেন তারা হাত দিয়ে চোখ কচলায় ফরে তারা হাতের জীবাণুগুলো চোখে গিয়ে ষ্টাই বা অঞ্জনী হয়। যাদের চোখের এটি বার বার হয় তাদের চোখের পাওয়ারজনিত কোন সমস্যা আছে কী না এটা দেখা উচিৎ। অনেকের ডায়াবেটিসজনিত কারণে অঞ্জনী হয়।
ডাঃ লোকমান হোসেনঃ ডায়াবেটিস এবং পেশার বা উচ্চ রক্তচাপের কারণে চোখের রোগের ঝুঁকি বেশি কী না?
ডাঃ অক্ষয় কুমার রায়ঃ তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। ডায়াবেটিকস আক্রান্ত রোগী মাইক্রোভ্যাসেল ইনভলব করে পরে পরবর্তীতে ল্যার্জ ভ্যাসেলও ইনভলব করে। ডায়াবেটিকসের কারণে চোখের রেটিনা কিছু পরিবর্তন হয়। ডায়ারেটিসে রেটিনা প্যাথি নামে খুব কমন একটি রোগ আছে এটি চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। এতে চোখের দৃষ্টি পর্যন্ত একেবারে চলে যেতে পারে। এটি হলে কয়েক ধাপে চোখের সমস্যা হতে পারে। প্রথম অবস্থায় রোগী কিছুই বুঝতে পারেন না। যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন তখন পরীক্ষার পর দেখা যায় যে চোখের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়ে চোখের ভিতরে লিপিড জাতীয় কিছু পদার্থ নিঃসরণ হয়ে সেগুলো জমা চোখের যে ম্যাকুলা সেসব জায়গাগুলোতে ক্ষতি করতে থাকে। দীর্ঘদিন এ রকম থাকলে চোখের রেটিনার যে পাতলা পর্দা আছে সেটি ছিঁড়েও যায়। যার ফলে ডায়াবেটিস যাদের আছে তাদের বছরে একবার হলেও চোখের রেটিনা পরীক্ষা করা দরকার। এছাড়াও ডায়াবেটিস চোখের পাতা পড়ে যাওয়া বা চোখ বাঁকা হয়ে যাওয়াসহ অনেক সমস্যা দেখা দেয়।