ডায়াবেটিস রোগীর অপারেশন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১২ মে ২০২০

ভূমিকা : সঠিকভাবে গণনা করা গেলে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫-৬% ভাগ। মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। সাধারণভাবে মানুষের ধারণা ডায়াবেটিস রোগীর অপারেশন করা যায় না আর অপারেশন করলে সর্বনাশ! এটি একটি ভ্রান্ত-ধারণা, প্রতিদিন সারা বাংলাদেশে শত শত ডায়াবেটিসের রোগীর সার্জিক্যাল, গাইনোকোলজীক্যাল কিংবা কার্ডিয়াক অথবা অর্থোপেডিক অপারেশন করা হয়।
অপারেশন করতে কি করণীয় :
ডায়াবেটিস রোগীর সার্জারী বা অপারেশন করতে গেলে যে বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয় তা হলো :
১) রোগীর ডায়াবেটিসের মাত্রা নির্ণয় : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে নাকি নিয়ন্ত্রণহীন প্রথমে সেটা নির্ণয় করে মাত্রা অবহিত হতে হবে।
২) অনিয়ন্ত্রিত বা নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আনা : নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসের জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে ইনজেকশন হিসাবে ইনসুলিনের ডোজ নির্ধারণ করে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুরু করতে হবে এবং ৫-৭ দিনের মধ্যে ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে (রক্তের শর্করা ১০ মিলিমোল/ডিএল এর নীচে) আনা যায়।
৩) শর্করা নিয়ন্ত্রণে এলে অপারেশনের দিন সকালে, অপারেশন চলাকালীন সময় এবং অপারেশনের পর রক্তের শর্করা পরীক্ষা করে ইনসুলিনের ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।
৪) অপারে শনের পর খাদ্যের নিয়ন্ত্রণসহ কমপক্ষে ২-৩ সপ্তাহ ইনসুলিন ইনজেকশন ফর্মে ব্যবহার করতে হবে।
৫) সেলাই কাটার পর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একমাস ইনসুলিন দেয়া হলে ফলাফল খুব ভাল পাওয়া যায়।
৬) একমাস পর মুখে ডায়াবেটিসের ওষুধ শুরু করতে হবে এবং তা সারা জীবন চালাতে হবে। অপারেশনের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ডায়াবেটিস রোগীর অপারেশনের পূর্বে এবং অপারেশন পরবর্তী করণীয়:
সাধারণত: হার্টের রোগী, পিত্তথলী/কিডনীতে পাথরসহ সকল সার্জিক্যাল রোগ, অর্থোপেডিকস এর স্ক্রু প্লেট, নেইল লাগানো কিংবা প্রস্থেসিস রিপ্লেস মেন্ট অপারেশন : মহিলাদের জরায়ু কর্তন অথবা সিজারিয়ান অপারেশন এসব ক্ষেত্রে রোগীদের মধ্যে এক রকম ভয় কাজ করে। তবে এসব ক্ষেত্রে অপারেশনের কোন নিষেধ নেই এবং সঠিকভাবে পরামর্শ মেনে চললে তা কখনোই কোন রকমের জটিলতা ছাড়াই কাঙ্খিত ফলাফল নিয়ে আসে।
ডায়াবেটিস রোগীর অপারেশনের পূর্বে তার হার্ট, ফুসফুস, কিডনী, লিভার এর কার্যক্রম ঠিক আছে কিনা তা বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত হতে হবে। রক্তের গ্রুপিং, রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বেতকণিকার পরিমাণ, কিডনী ফাংশন, লিভার ফাংশন, বুকের এক্সরে, ইসিজি, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, প্রস্রাবের পরীক্ষা করা আবশ্যক।
রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে, ডায়াবেটিস রোগীর অপারেশন শেষে ক্ষতস্থানের যতœ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সেলাই কেটে নিতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মনে করে কবিরাজী কিংবা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা না করাটাই রোগীর জন্য মঙ্গলজনক। এতে উল্টো ফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
আরেকটি বিষয় সবার জন্য প্রযোজ্য তা হলো ডায়াবেটিস মায়ের পেটে বাচ্চা এলে তা অবশ্যই অভিজ্ঞ সার্জন দিয়ে অপারেশন করতে (সিজারিয়ান অপারেশন) হবে।
ডায়াবেটিস নি:সন্দেহে জটিল রোগ তবে অপারেশনের ক্ষেত্রে এটা কোন সমস্যাই নয় যদি রোগীর হার্ট, ফুসফুস, কিডনী ও লিভার ফাংশন ঠিক থাকে। তবে সকল ক্ষেত্রেই রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডা: মো: নজরুল ইসলাম

এমবিবিএস, বিসিএস, ডি-অর্থো- (ডি-ইউ)
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ।