গর্ভাবস্থায় যেসব ভুল মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৪:২৪ পিএম, ১২ মে ২০২০

স্বাস্থ্য কথা ডেস্ক : গর্ভাবস্থায় মায়েদের সবচেয়ে বেশি যতেœ রাখতে হয়। কারণ এ সময় সামান্য ভুলে হতে পারে অনেক বড় বিপদ। ক্ষতি হতে পারে মা ও শিশুর। চিকিৎসকরা বলেন, নিজেদের ভাবনা-চিন্তার পরও থেকে যায় নানারকম ভুল। আমাদের অনেকেরই ধারণা, গর্ভাবস্থায় নিজের ও সন্তানের জন্য খেতে হয় দুজনের মাপে। বেশিরভাগ সময়ই শুয়েবসে থাকতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার কোনোটাই ঠিক নয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মার্থা হাজরার মতে গর্ভাবস্থায় বাড়িতে হবু মায়েরা নানারকম ভুল, ধারণার শিকার হন। কারণ এ সময় নানাবিধ শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এমনিই কিছুটা ভয় দানা বাঁধে। তার ওপর এসব ভুল ধারণা আরও বেশি করে উদ্বেগের জন্ম দেয়।
আসুন জেনে নিই গর্ভাবস্থায় যেসব ভুলে মা ও শিশুর জীবনঝুঁকি বাড়ে-অনেকেই বলে থাকেন গর্ভাবস্থায় দুজনের মাপে খেতে হয়। এ ধারণা ভুল। ছোট্ট ভ্রূণের এত খাবার লাগে না। অতিরিক্ত খাবারে হবু মায়ের ওজন বাড়ায়। ফলে বাড়ে ডায়াবেটিস, প্রেশারসহ আরও অনেক জটিল রোগ। ফলে মা ও শিশুর জীবনঝুঁকি বাড়ে। প্রথম তিন মাস পুষ্টিকর খাবার খান, আগের মাপেই। তিন মাস পর থেকে মাত্র ২৫০ ও ৩০০ ক্যালোরি বেশি খেতে হবে। একটা কলা, ছোট এক বাটি সিরিয়াল আর দুধ। ছোটখাটো ওষুধ নিজেই খাওয়া যায় : গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া যাবে না। সাধারণত ওষুধ খেলেও শিশুর জন্মগত ত্রুটিসহ আরও অনেক রোগ হতে পারে। তাই বদহজম কোষ্ঠকাঠিন্য, যাই হোক না কেন, ওষুধ খান চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

কম ঘুমিয়ে কাজ সেরে রাখা : গর্ভাবস্থায় ক্লান্ত থাকে শরীর। তার সঙ্গে কম ঘুম যুক্ত হলে স্বাস্থ্য ভাঙতে বাধ্য। কাজেই অন্তত ৭৮ ঘণ্টা ঘুমান। শুয়েবসে থাকতে হবে : দিনে আধাঘণ্টা অন্তত হালকা ব্যায়াম করুন। জোরকদমে হাঁটা, যোগ ব্যায়াম ইত্যাদি না করলে ওজন বেড়ে ডায়াবেটিস বা হাইপ্রেশার হতে পারে। প্রসবে সমস্যা, মানসিক চাপ কমাতে, রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে ও প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতেও ব্যায়ামের জুড়ি নেই। আর যত নড়াচড়া করবেন, গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধিও ভালো হবে এতে। তবে বলে খুব ভারী কাজ, পরিশ্রমের কাজ করবেন না। কিন্তু শরীরকে নানাভাবে সচল রাখতে হবে। পছন্দসই খাবার নয়, চাই স্বাস্থ্যকর খাবার : মিষ্টি, ভাজাভুজি, মসলাদার খাবার কম খেতে হবে। কারণ এতে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যেতে পারে ও হতে পারে অপুষ্টিও। মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হলে কিসমিস, খেজুর, ফল আর নোনতা খাওয়ার ইচ্ছে হলে বাদাম, কাজু, পেস্তা খান।অ্যান্টিনেটাল ক্লাসে যাওয়ার দরকার নেই : প্রসবের পর কীভাবে চলবেন, ব্রেস্ট ফি, কী খাবেন, কী ব্যায়াম করবেন এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত অ্যান্টিনেটাল ক্লাসে গেলে ভালো বই মন্দ হয় না।