সপ্তম ব্যালন ডি’অর

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২১, ১১:৩৫ দুপুর
আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২১, ১১:৩৫ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

সপ্তমবার বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি'অর জিতলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। রবার্ট লেভানডস্কি হন রানারআপ। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫ ‌ও ২০১৯ সালের পর আবার‌ও সোনার বল হাতে নিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। লেভানডস্কি গত বছর দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে বাতিল হয়েছিল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার স্প্যানিশ নারী মিডফিল্ডার আলেক্সিয়া পুতেলাস বর্ষসেরা নারী ফুটবলার নির্বাচিত হন। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথম স্পেনের কোনও ফুটবলার এই পুরস্কার পেলেন। পুতেলাস বার্সার হয়ে ২৬টি গোল করেন।

প্যারিসে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকে তারকাখচিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বার্সেলোনা ছেড়ে লি‌ওনেল মেসি এখন পিএসজিতে আছেন। সেই প্যারিসেই মেসির মুকুটে যোগ হলো আরো একটি সাফল্যের পালক। ব্যালন ডি'অর জয়ের নিরিখে মেসি রোনালদোকে আরও পিছনে ফেললেন। সবচেয়ে বড় কথা, ২০১০ সালের পর এই প্রথম ব্যালন ডি'অর পুরস্কারের দৌড়ে প্রথম তিনেই থাকতে পারেন নি বর্তমানে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

গত এপ্রিলে বার্সেলোনার কোপা দেল রে জয়ের পিছনে ছিল মেসির অবদান। এরপর লিওনেল মেসির অধিনায়কত্বে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা শিরোপা জেতে। মেসিই হন টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার। আর্থিক কারণে মেসিকে বার্সা ধরে রাখতে না পারায় কেরিয়ারে এই প্রথম ক্লাব ছাড়তে হয় মেসিকে, প্যারিসে পিএসজিতে যোগ দেন তিনি। পিএসজির হয়ে ১১ ম্যাচে মেসির গোল ৪টি। শেষ ম্যাচেও তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

এদিকে, ৩৩ বছরের লেভানডস্কি বায়ার্ন মিউনিখে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও এ বছর তাঁকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। চলতি মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে ২০ ম্যাচে তিনি ২৫টি গোল করেন। মেসি, লেভানডস্কিদের সঙ্গে দৌড়ে ছিলেন চেলসির মিডফিল্ডার জর্জিনহো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব জয় থেকে ইউরো-জয়ী ইতালি দলের সদস্য হয়েও তিনি ব্রোঞ্জ পদকই জিতেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ বা ফ্রান্সের হয়ে ভালো খেললেও প্রথম তিনে আসতে পারেননি করিম বেনজেমা। ব্যালন ডি'ওরের প্রথম ৩০ ফুটবলারের মধ্যে তিনি আছেন চতুর্থ স্থানে। প্রথম পাঁচে আর যিনি ঠাঁই পেয়েছেন তিনি হলেন এনগোলো কন্তে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হন ষষ্ঠ। মোহাম্মদ সালাহ সপ্তম, কেভিন ডি ব্রুইন অষ্টম, কিলিয়ান এমবাপে নবম ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দশম স্থান পেয়েছেন। একাদশ স্থানে রয়েছেন আর্লিং হালান্ড, দ্বাদশ স্থানে রোমেলু লুকাকু, ত্রয়োদশ স্থানে জর্জিও চিয়েলিনি, চতুর্দশ স্থানে লিওনার্দো বোনুচ্চি, ১৫ নম্বরে রাহিম স্টার্লিং, ১৬ নম্বরে নেইমার, সপ্তদশ স্থানে লুইস সুয়ারেজ। ১৮ নম্বরে সাইমন জায়ের, ১৯ নম্বরে ম্যাসন মাউন্ট, ২০ নম্বরে রয়েছেন রিয়াদ মাহরেজ। যুগ্মভাবে ২১ নম্বরে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। ২৩ নম্বরে হ্যারি কেন, ২৪ নম্বরে পেদ্রি, যুগ্মভাবে ২৬-এ রয়েছেন ফিল ফডেন, নিকোলো বারেল্লা ও রুবেন দিয়াজ। যুগ্মভাবে ২৯ নম্বরে লুকা মদ্রিচের সঙ্গে রইলেন সিজার আজপিলিকুয়েতা।

ক্লাব ফুটবলে গেল মৌসুমটা আহামরি গোচের কিছু না হলেও জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ শূন্যতা ঘোচানোর(২৮ বছর পর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা) মাঝেই আসল কাজটা সেরে ফেলেন লিওনেল মেসি। বর্ষসেরা ফুটবলারের লড়াইয়ে এগিয়ে যান অনেকটা। মিলে গেল তযায় স্বীকৃতি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২১ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়