পূজায় সুব্রতর সারপ্রাইজ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

রণজিৎ সরকার: করোনা কারণে বদলে গেছে গোটা পৃথিবী। বদলে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলার ধরন। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল মাঠের খেলা ভুলে ঘরের কোণেই স্মার্টফোনে কার্টুন আর গেমের দুনিয়ায় মজেছে অনেকেই। কিন্তু সুব্রত নিজের মস্তিষ্ক আর হাতকে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ব্যস্ত রাখেনি। সে চুপে চুপে কি যেন তৈরি করে। বাসার কাউকে দেখায় না। সবাইকে বলে কাজ শেষ হলে দেখাব। দুর্গাপূজার সারপ্রাইজ দেব। কেউ জানতে চাইলে বলে আর কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরো। বাসার সবাই তার উপর বিশ^াস রাখে। চুপচাপে একা একা খারাপ কিছু করবে না। মেধাবী ছেলের কাছ থেকে ভালো কিছুই আশা করে পরিবারের সবাই।
সুব্রত আসলে হাত দিয়েছে শিল্পকলায়। শিফন সুতো, কাগজ, আঠা, কিছু স্টোন আর নতুন কেনা ফ্রিজের বোর্ড দিয়েই অপরূপ দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে সুব্রত। মায়ের জন্মদিনে দুর্গাপ্রতিমার মূর্তিটা মাকে উপহার দিল সুব্রত। কাগজের তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখে মা অবাক হয়ে বললেন, ‘নিজ হাতে দুর্গাদেবীর মূর্তি বানিয়ে আমার জন্মদিনের উপহার দিলে। পৃথিবীতে এমন উপহার হয়তো কোন সন্তান তার মায়ের জন্মদিনে দেয়নি। তোমাকে ধন্যবাদ সুব্রত।’
‘আমারও তাই মনে হয়েছে মা। তবে তোমাকে খুশি করতে পেরে আমিও আনন্দিত। আমার বানানো এই দুর্গামূর্তিতেই আমাদের বাসায় এবার পূজা করতে হবে। তুমি কি বলো মা।’
‘অবশ্যই, তোমার বানানো মূর্তিতেই পূজা করব। তবে আগে বলো তো এমন বুদ্ধি তোমার মাথায় কেমন করে এলো?’
‘দুটো কারণে মূর্তিটা বানিয়েছি মা। প্রথমত হলো তোমার মঙ্গল কামনায় জন্মদিনের উপহার। দ্বিতীয়ত হলো করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে যদি পূজা না হতো বা এখন যারা করোনা ভাইরাসের ভয়ে মন্দিরে যেতে চাইবে না। তারা যেন আমার বানানো দুর্গাদেবীর মূর্তি বাসায় বসে দেখে। আর করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে। আমার বানানো দুর্গাদেবীর মূর্তিটা ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করব। মানুষ ঘরে বসে দেখবে।’
সুব্রত পরিকল্পনা শুনে বাবা মা সত্যি অবাক হলেন।
সুব্রত বাবাকে বলল, ‘বাবা, তোমার মোবাইল ফোন দিয়ে মূর্তিটাসহ আমাকে ভিডিও করো। আমি কিছু কথা বলব।’
বাবা ভিডিও করতে লাগলেন। সুব্রত বলতে লাগল, ‘নমস্কার, আমার নাম সুব্রত। আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। লকডাউনে বসে বসে আমি একটি দুর্গাদেবীর মূর্তি বানিয়েছি। একটু দেখুন প্লিজ। যদি ভালো লাগে তাহলে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেবেন। আর হ্যাঁ, আমার বাড়ি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই দুর্গা ঠাকুরটি যদি কেউ দেখতে আসেন, তাহলে আমি আরও ভীষণ খুশি হব। আসবেন তো?’
সুব্রত আর কিছু বলল না। ভিডিওটা ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দিল। এমন দুর্গাদেবীর মূর্তি দেখে মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ হতে লাগল। বিভিন্ন রকমের মানুষজন আসতে লাগল। যদিও এবার পূজায় নতুন পোশাক পরে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার মতো মানসিকতাও ছিল না সুব্রতর। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষ কোন পরিকল্পনাও ছিল না। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হচ্ছে। এবং শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশার কথা ভেবে এবার পূজায় নতুন পোশাক কেনার কথা ভাবতে পারেনি সুব্রত। সুব্রতর বানানো দুর্গাপ্রতিমা যে দেখতে আসছে তারা সুব্রতর জন্য উপহার হিসাবে নতুন শার্ট, প্যান্ট নিয়ে এসেছে। সেগুলো আবার সুব্রত গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করে দেয়। দুর্গাপ্রতিমা বানিয়ে এবার পূজায় শিল্পী প্রতিভা দিয়েই সেলিব্রেটি হয়ে গেল সুব্রত।