রিমিঝিমি ও কুমিরছানা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

মোনোয়ার হোসেন: একটানা ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। সেই বৃষ্টিতে মনের সুখে সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটছিল এক কুমিরছানা কুমকুমি। কখনো সাঁই সাঁই করে সাঁতার কেটে ছুটছে সে, কখনো ডিগবাজি খেয়ে ছুটছে। ছুটছে তো ছুটছেই। রিমঝিম বৃষ্টি পড়ছে একটানা।  সেও ছুটছে একটানা। কেউ থামছে না। কারো থামার নাম নেই। কুমিরছানা খেলছে। তারা যেন একজন আরেকজনের সাথে খেলাতে মেতে উঠেছে। খেলতে, খেলতে আর ছুটতে ছুটতে কুমকুমি চলে এলো অনেক দূরে। সমুদ্র থেকে নদীতে। নদী থেকে বিলে। বিল থেকে শহরের গলিতে। সবখানেই তো পানি।কোনটা শহর, কোনটা বিল, কোনটা নদী, কোনটা সমুদ্র বুঝার জো নেই। সবখানেই ভরাট পানি। থৈ থৈ পানি। শহরের গলিতে এসেই বাড়ি ফেরার পথ ভুলে গেল কুমকুমি। বৃষ্টিও ছেড়ে গেল। আকাশ পরিস্কার হলো। ঝকঝকে তকতকে। লোকজন ঘর থেকে বের হলো। এত পানি দেখে কারো মনে ভয়, কারো মনে উৎকণ্ঠা, কারো মনে উৎসুক। ছোট্র মেয়ে রিমিঝিমি।
পানি দেখে সে খুব খুশি। বায়না ধরল বাবার কাছে। তার একটা নৌকা চাই। সে নৌকা চড়ে শহর ঘুরবে। কী মজা! বাবা পড়ল বিপাকে। শহরে নৌকা পাবে কোথায়? শেষে মেয়ের বায়না দেখে আর থাকতে পারল না। কেটে নিয়ে এলো কলা গাছ। বানাল ভেলা। ভেলা পেয়ে রিমিঝিমি খুব খুশি।
ভেলায় চড়ে বসল সে। ছুটতে লাগল শহরের এ গলি থেকে ও গলি । চলতে চলতে সে চলে এলো একটু গভীর পানিতে। সেখানে প্রবল পানির স্রোত। রিমিঝিমি পানির স্রোতের কাছে এসে ভেলাকে সামলাতে পারল না। ভেলা উল্টে গেল। রিমিঝিমি পানিতে পড়ে গেল। সাঁতার জানে না রিমিঝিমি। টুপ করে পানিতে ডুবে গেল সে। দম বন্ধ হয়ে এলো তার। ঢোকঢোক করে পানি খেতে লাগল। পানি খেতে খেতে সে চিৎকার করে বাবাকে ডাকতে লাগল। মাকে ডাকতে লাগল। পানির নিচে চিৎকার করলে উপরে শুনা যায় না। তার চিৎকার বাবা-মা শুনতে পেল না। সে পানি খেতে আর তলিয়ে যেতে লাগলো।  পথ হারিয়ে সেখানেই  মন খারাপ করে বসে ছিল কুমিরছানা কুমকুমি। সে বুঝতে পারল মেয়েটা সাঁতার জানে না। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে যাচ্ছে সে। দৌড়ে এলো কাছে। রিমিঝিমিকে পানি থেকে তুলল। ভেলায় বসিয়ে দিল। বলল, সাঁতার না শিখে কখনো পানিতে নামতে নেই। রিমঝিম খুশি হলো।
হেসে বলল, কাল থেকেই সাঁতার শিখবো রে কুমিরছানা। তারপর বলল, কুমিরছানা,  তোমার বাড়ি কোথায়?
কুমিরছানা বলল, সমুদ্রে।
রিমিঝিমি চোখ কপালে তুলল। বলল, সে কী, সমুদ্র তো এখান থেকে অনেক দূর! এটা হলো উত্তরবঙ্গ। রংপুর বিভাগ। রংপুর শহর। শাপলা চত্ত্বর।
রংপুর? হ্যাঁ। কুমিরছানা বলল, আমি তো মায়ের কাছে শুনেছি রংপুর শহর অনেক উঁচু। কখনো পানি শহরে ঢুকে না। ঢুকে না তো।
আমি আমার জীবনে রংপুর শহরের ভিতর কখনো এত পানি দিখিনি। বাবাও তার জীবনে দেখেনি। দাদুও তার জীবনে দেখেনি। তারপর বলল, কুমিরছানা, তুমি তাড়াতাড়ি শহর ছেড়ে তোমার সমুদ্রে চলে যাও। তানাহলে পানি চলে গেলে তুমি শহরে আটকা পড়বে। লোকে তোমাকে ধরে ফেলবে। ধরে মেরে ফেলবে।
এবার কুমিরছানা ভ্যাঁ করে কেঁদে দিল। বলল, আমি সমুদ্রে যাওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেছি। রিমিঝিমি বলল, কেঁদো না। আমার ভেলায় ওঠে বসো। আমি বাবাকে বলে তোমাকে সমুদ্র রেখে আসবো।
কুমিরছানা ভেলায় ওঠে বসল। রিমিঝিমি শহরের গলিতে ভেলা ঠেলে বাসার দিকে ছুটল। পরেরদিন বাবাকে নিয়ে রিমিঝিমি সমুদ্রে গেল। বাবা-মাকে ফিরে পেয়ে কুমিরছানা খুব খুশি হলো। রিমিঝিমি বলল, কুমিরছানা রে!
কুমিরছানা বলল, হুঁ।
বাবা-মাকে ছেড়ে আর কখনো একা একা দূরে যাবে না। কুমিরছানা বলল, ঠিক আছে। তুমিও কিন্তু সাঁতার না শিখে পানিতে নামবে না।
খিলখিল করে হেসে উঠল রিমিঝিমি। বলল , ঠিক আছে রে কুমিরছানা, ঠিক আছে।