আসল পরিচয়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২০

মোহাম্মদ আবদুর রহমান: এক জঙ্গলে একটি কোকিল দম্পতি বসবাস করতো। তাদের দুটি বাচ্চা ছিল। তার মধ্যে ছোট বাচ্চাটা ছিল ভীষণ দুষ্ট। সে সব সময় ভাবত অনেক বড় হয়ে গেছে। তাই সে যখন তখন বাসা থেকে বেরিয়ে পরতো যখন ওর বাবা মা বাসায় না থাকত। অনেক সময়ই পথ ভুলে গেলেও অনেকের সাহায্য নিয়ে ঠিক বাসায় ফিরে আসত। কিন্তু সব দিন যে তার অনুকূলে আসবে এমন কথা তো ঠিক নয়। তাই তার বাবা মা তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতো। কোনদিন হয় তো সে হারিয়ে যাবে। আর খুঁজে পাওয়া যাবে না তাকে। তবে সে সব ভয় তোয়াক্কা না করে নিজের মতো জঙ্গলের ভেতর ঘুরে বেড়ায়। একদিন কোকিল দম্পতি খাবারের সন্ধানে বাসা থেকে বের হলে তাদের ছোট বাচ্চাটিও বাসা থেকে বের হয়ে জঙ্গলের ভেতর ঘুরতে থাকে। এরপর সে পথ ভুল করে বসে। সে অনেক চেষ্টা চালিয়েও বাসার পথ খুঁজে পায়নি। সে তার নিজের ভুল বুঝতে পারে। এখন তার বাবা মার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। নিরুপায় হয়ে আর্তনাদ করতে থাকে। ঠিক সেই সময় সে দেখতে পায় একদল কাককে। সে তাদের দলের নেতাকে বলে তার নিজের পথ হারানোর কথা। আসলে কয়েক দিন আগে কাকগুলো লোকালয় থেকে জঙ্গলের দিকে এসেছিল। তারা আবার লোকালয় ফিরে যাবে। কাকের দলেরা চিনে না তার বাসা। কাক নেতা বাচ্চা কোকিলকে ডেকে বলে তুমি চাইলে আমাদের সাথে যেতে পার।

 বাধ্য হয়ে বাচ্চা কোকিলটি কাকের দলের সাথে ফিরে যাই লোকালয়। ফলে হারিয়ে ফেলে তার স্বজনদের। কোকিলটি কাকদের সাথে থাকতে থাকতে ভুলে যায় তার নিজের পরিচয়। কাকরাই হয়ে ওঠে তার স্বজন। সে নিজেকে কাক ভাবতে শুরু করে। সে তাদের সাথে তাদের মত করে বড় হয়ে উঠেছে। অনেকদিন পর বাচ্চা কোকিলটি এখন আর বাচ্চা নেই। এখন বড় কোকিলে পরিণত হয়েছে। সে বুঝতে পারে অনেক কিছু। একদিন সাগরে পাড়ে জল খেতে গিয়ে সে দেখতে পায় তার আসল চেহারা। তার চেহারা দেখে বুঝতে পারে সে কাক নয়। অন্য কোন প্রজাতির পাখি। সে কি প্রজাতির পাখি তা জানার জন্য মনের ভেতর সৃষ্টি হয় এক তীব্র কৌতুহল। সারাক্ষণ নিজেকে নিয়ে অস্থির থাকে। নিজেকে বারবার প্রশ্ন করে। কিন্তু উত্তর মেলেনা। কিন্তু তার নিজের ছবি বারবার ভেসে ওঠে মনের মনিটরে। একথা সে কাকদের বলার সাহস পাই না। তার কণ্ঠস্বর কাকের মত কর্কশ নয় এজন্য কাকরা তাকে ব্যঙ্গ করত। সেসব কথা তার বারবার মনে পড়ছে। কিন্তু মনে পড়ছে না তার পুরনো পরিচয়।  কিছুদিন যাওয়ার পর সেই কাকের দল আবার জঙ্গলের দিকে রওনা দেই। সেখানে পৌঁছানোর পর কোকিলটি অন্যান্য পাখিদের সাথে নিজের মিল খোঁজার চেষ্টা করে। একদিন পর সে একটি কোকিলকে দেখতে পায় সে মধুর সুরে গান গাইছে। তাকে দেখার পর তার নিজের চেহারার মিল খুঁজে পায়। আর বুঝতে পারে তার স্বজনদের মধ্যে কেউ হতে পারে। এই ভেবে মনে আনন্দের বান ডেকে যায়। সে তাড়াতাড়ি তার কাছে ছুটে গিয়ে কোকিলকে বলে ভাই তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব তুমি উত্তর দেবে। কোকিলটি বলে, কেন দেবো না। সংকোচ না করে বলে ফেলো।  কথাটা বলা কী ঠিক হবে ? -মানে। -তুমি হয়ত হাসবে তাই বলতে লজ্জা লাগছে। -কেনো হাসবো? যা বলার বলে ফেলো।
 
-তুমি কোন প্রজাতির পাখি? -তুমি তো সত্যিই হাসালে। তুমি যেই প্রজাতির আমিও সেই প্রজাতির। - তাহলে আমি কি পারব তোমার মত মধুর সুরে গান গাইতে। -কেন পারবে না। চেষ্টা করেধ দেখো। -আসলে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাকদের সাথে বসবাস করছি। আমি নিজেকে কাক ভাবতাম। কিন্তু একদিন জল খেতে গিয়ে দেখি কাকের শরীরের সাথে আমার শরীরের অনেক পার্থক্য। কিন্তু খুঁজে পায়নি নিজের পরিচয়। তোমাকে দেখে মনে হল নিশ্চয়ই তুমি আমার কোন স্বজন হতে পারো কারণ তোমার শরীরের কাঠামো আর আমার শরীরের কাঠামো একই। হয়তো আমি ছোটতে গেছি। কিন্তু মনে পড়ে না সেসব কথা। অন্য কোকিলটি কিছুক্ষণ ভাবার পর তার মনে হলো এই কোকিলটি তার হারিয়ে যাওয়া ছোট ভাই। যার কথা প্রায়ই তার মার মুখে শুনে এসেছে। তখন তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বলে তুই তাহলে আমার হারিয়ে যাওয়া ছোট ভাই। চল বাড়ি চল। মা এখনো তোর পথ চেয়ে বসে আছে। বড় দাদা কে পেয়ে হারিয়ে যাওয়া কোকিলটির  আনন্দে চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো। আর সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো বাড়ি যাওয়ার। সে অনেকদিন হলো খুঁজছিল তার আসল পরিচয়।