জেলে ও জল ভূত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২০

দিপংকর দাশ: অনেক কাল আগের কথা। চারিদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত জলসুখা গ্রামে বাস করত এক জেলে। তার নাম দুকেশ। সে অত্যন্ত দরিদ্র হলেও সৎ ও খুব পরিশ্রমী ছিলো। সে প্রতিদিন মাছ ধরে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। টেনেটুনে চলে যাচ্ছিলো দুকেশের দিনকাল। একদিন দুকেশ মাঝ রাতে তার কনুইজাল নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীর দিকে যায়। নদীর পাড়ে পৌঁছানো মাত্রই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। দুকেশ বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। ইশ, আগে জানলে আর মাছ ধরতে আসতাম না। এসেই যখন পড়েছি মাছ ধরেই যাই অনেক দূরের পথ। খালি হাতে গিয়ে লাভ নেই। এই বলে দুকেশ নদীতে জাল ফেলে। জাল টেনে তুলে সে দেখে দুয়েকটা চিংড়ি ছাড়া আর কোনো মাছ উঠে নি। সে আবার নদীতে জাল ফেলে। এবারও সে একই অবস্থা। বৃষ্টি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কিন্তু দুকেশ মাছ ধরেই বাড়ি ফিরবে। সে যতই রাত হোক আর বৃষ্টি আসুক, মাছ ভর্তি ব্যাগ নিয়েই বাড়ি ফেরার জেদ ধরে । তাই বারবার জাল ফেলে সে। কিন্তু মাছের দেখা নেই। মাছগুলো যেন আজ নদী ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছে। সে জাল ফেলতে ফেলতে ঝালোহাটির ঘাটে এসে পৌঁছায়।

গভীর রাত। মাঝে মাঝে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। দুকেশ জাল ফেলে ফেলে হতাশ হয়ে গেছে। আজ হয়তো কপালটাই খারাপ এই ভেবে বাড়ির ফেরার চিন্তা করে। এই শেষবার জাল ফেলব, তারপর বাড়ি ফিরে যাবো', দুকেশ বলে। সে জাল ফেলল। জাল তুলে দেখে একটি কাঁকড়া ও একটি কাঁচের বোতল উঠেছে। দুকেশ খুব দুঃখ অনুভব করে। তার চোখ যায় কাঁচের বোতলটির দিকে। বোতলটি দেখতে কিছুটা অদ্ভুত। সে বোতলটি হাতে নিয়ে তার মুখ খুলে ফেলে। আরে একি! বোতল থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে কেন? দুকেশ দেখে ধোঁয়া এক জায়গায় জমা হয়ে এক অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে। দেখে মনে হচ্ছে ভয়ংকর এক ভূত। দুকেশ খুব সাহসী সে ভূতকে দেখে ভয় পায় নি। সে বলে, ' কে তুমি?
- হা হা হা হা। আমাকে চিনবা না। আমি জলভূত।
- জলভূত? কিন্তু এখানে কেন?
- আমি ছিলাম মুনুরা ভূত এর বড় সন্তান। আমি একদিন ভূল করে এ জাদুকরের আস্তানায় ঢুকে পড়ি। সেই জাদুকর আমাকে বোতলে পড়ে নদীতে ফেলে দেয়। আমি অনেক বছর ধরে এই বোতলে বন্দি ছিলাম। আজ তুমি আমাকে মুক্ত করেছো। তাই তোমার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বলো বন্ধু, 'তুমি কী চাও? তুমি যা চাইবে তাই দিবো। টাকা পয়সা, ধনদৌলত, রাজমহল, সাম্রাজ্য যা চাও তাই তোমার পায়ের তলায় এনে ফেলব। শুধু একবার বলো হে আমার প্রিয় বন্ধু। দুকেশ ছিলো সৎ ও ভালো মনের মানুষ। সে বলে, 'হে জলভূত, তুমি যখন আমাকে বন্ধু বলেছো এতেই আমি অনেক খুশি। আমার টাকা-পয়সা, ধনদৌলত এর প্রয়োজন নেই। বন্ধুর কাছ থেকে আমি এসব নিয়ে কী করব? তবে আমার কেবল একটাই ইচ্ছে, তুমি সর্বদা বন্ধু হয়ে আমার পাশে থেকো। আমার বিপদ এলে তুমি আমাকে সাহস দিও। বন্ধু হিসেবে এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না আমি। জলভূত অবাক হয়। সে এমন মানুষ কখনো দেখে নি। সে জানতো, মানুষরা অনেক লোভী আর স্বার্থপর হয়ে থাকে। এমন সৎ ও সাদা মনেরও যে মানুষ এই সে প্রথম দেখেছে। সে অত্যন্ত প্রসন্ন হয় এবং সর্বদা দুকেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। দুকেশও ভীষণ আনন্দিত হয়। সে বলে, 'হে আমার বন্ধু। আমি সর্বদাই দেখেছি ভূতেরা মানুষের ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু তুমি আমার পাশে থাকার কথা দিয়েছো। তোমার মত বন্ধু পেয়ে আমিও অনেক গর্বিত। চলো আমার বাড়ি চলো। আমার কুঁড়েঘরে তুমি আমার সঙ্গেই থাকবে।জলভূত অনেক খুশি হয় এবং দুকেশের সাথে তার বাড়িতে যায়। তারপর থেকে দুই বন্ধু একসাথেই থাকে আর একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে আনন্দে দিন কাটাতে থাকে।