রাখাল ও তার চারটি গরু

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২০

শরিফুল ইসলাম: সে অনেক দিন আগের কথা, কোনো এক গ্রামে বাস করতো এক দরিদ্র রাখাল। তার চারটি গরু ছিলো, তাদের মধ্যে ১টি গাভি ১টি ষাঁড় ১টি বকনা বাছুর এবং ১টি ১মাস বয়সের ষাঁড় বাছুর। রাখাল দরিদ্র হলেও খুব শৌখিন মানুষ। তিনি তার প্রতিটি গরুর আলাদা আলাদা নাম রাখতেন। তার গাভিটির নাম রাখেন লালাই। লালাই নাম রাখার কারণ হলো লালাইয়ের গায়ের রঙ লাল। আরেকটি কারণে রাখাল তার এই গাভিটির নাম রাখেন লালাই। সে কারণ হলো লালাই খুব শান্তশিষ্ট এবং লজ্জাটে। লালাই কখনো কোনো ফসলের খেতখামার নষ্ট করেনি, তাই তো রাখালও লালাইকে খুব পছন্দ করতেন এবং ভালোবাসেন।
রাখাল তার ষাঁড় গরুর নাম রাখেন কালাই। কালাইয়ের গায়ের রঙ মিশমিশে কালো এবং খুব দুষ্ট প্রকৃতির, দেখতেও বেশ ভয়ানক। মাথার ছোটছোট দুইটি শিং-এর একটি শিং-ও আবার ভেঙে গেছে। পুবের চকে মোহন রাখালের গন্ডারের মতো ষাঁড়কে ঢিপ দিতে গিয়ে কালাই তার একটি শিং হারায়। তবুও তার তেজ কমেনি। রাখাল তার ষাঁড়ের ক্ষিপ্রতা বদমেজাজি দুষ্টভাব আর মিশমিশে কালো রঙের জন্য নাম রাখেন কালাই। আর বকনা বাছুরটির নাম রেখেছেন ধলাই। ধলাই প্রায় লালাই এর মতোই শান্তশিষ্ট। আর শান্তশিষ্ট হওয়ারই কথা, হাজার হলেও তো লালাাইয়ের বাছুর। তবে ধলাই এর গায়ের রঙ ধপধপে সাদা। তার এই ধপধপে সাদা রঙের কারণে রাখাল তার নাম রাখেন ধলাই।

রাখালের ঘরে নতুন মেহমান হলো বলাই। বলাই এর বয়স মাত্র ১মাস। সে এক দৌড়ে রাস্তার ঐ প্রান্ত থেকে এই প্রান্তে চলে আসে আবার চোখের পলকেই ঐ প্রান্তে চলে যায়। একটু পর পর মায়ের কাছে এসে শুধু দুধ পান করে যায়, এই হলো তার কাজ। বলাই হলো রাখালের পরিবারে সব চেয়ে সুখীজন। লালাই এর ঘরে তিন সন্তানের মধ্যে সব চেয়ে ছোট বলাই, বলাই এর বড় হলো ধলাই আর ধলাই এর বড় ছিলো নীলাই। কিন্তু নীলাইকে গরুচোরেরা চুরি করে নিয়ে যায় এবং লালাই আর কালাইকে ব্যথা দেয়। অনেক খুঁজাখুঁজির পরেও নীলাইকে রাখাল খুঁজে পায়নি। নীলাইকে হারিয়ে রাখাল খুব কান্না করেছিলো। কিন্তু নীলাই এর শোক মুছে দেয় ধলাই এসে। ধলাই এর জন্মের পর রাখাল নীলাইকে পুরোপুরি ভুলে গেছে। ধলাই এখন বড় হয়ে গেছে, ধলাই দেখতে সুন্দর হওয়ায় ধলাইকে গরু সমাজের রাজকন্যা বলা হয়।

একদিন ভোর রাতে হঠাৎ গরুদের হাম্বা ডাক আর অচেনা মানুষের ব্যথা পাওয়ার শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় রাখালের। রাখাল কিছু না বুঝেই তার ঘর থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে আসে গোয়ালের সামনে। রাখাল তো অবাক, একি কান্ড! গোয়ালের দরজা খোলা, তবে কি নীলাই এর মতো আজ আবার কাউকে হারালো রাখাল? রাখাল অচেতন ভাবে দৌড়ে গোয়ালে প্রবেশ করে দেখলো যে কালাই এর শিং বেয়ে রক্ত ঝরছে, গলার রশিটাও ছিঁড়া ! আর ধলাই গোয়ালের ঐ কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে তার গলার রশি খোলা হয়েছে মনে হয়। তাহলে লালাই আর বলাই কোথায়?ঐ তো লালাই আর বলাই শঙ্কিত ভাবে কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে গোয়ালের বেড়া ঘেঁষে। সবই ঠিক আছে, তবে কালাই এর শিং বেয়ে রক্ত ঝরছে কেনো? তবে কি গরুচোরকে শিং দিয়ে আঘাত করেছে কালাই? শিং-এর আঘাতের ফলেই মানুষের আর্তনাদ শুনতে পেলো রাখাল? কালাইয়ের আরো একটি শিং বিসর্জনের কারণে বেঁচে গেলো ধলাই লালাই বলাই অথবা কালাই এর নিজের জীবন।