শালিক ছানা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

জান্নাতা নিঝুম শিল্পী: সিনথিয়াদের বাড়ির পেছনে কাঁঠাল গাছে অনেকদিন থেকে বাস করে একটি শালিক পরিবার। দুটোছানা নিয়ে বাসায় থাকে মা শালিক। ডিম ফুটে ছানা দুটি বেরিয়েছে ক’দিন  আগে। এখন এলোমেলো ভাবে ছানা দুটি  কাঁঠালের ডালে বসে চিঁচিঁ ডাকে। আর ঠ্যাং তুলে নাচে। মা শালিক তাদের নিয়মিত  উড়তে শেখায়। এবং নিজেদের  ভাষা শেখায়। প্রত্যেকটি প্রাণীর কাছে তার মায়ের ভাষায় আসল। তাই ছানা দুটি মায়ের মত  কথা বলতে শেখে। মাঝে মাঝে মাকে বলে, মা আমরা নিচে নামতে চাই। ঘুরে ঘুরে দেখতে চাই সবকিছু। মা শালিক তখন ঝটপট জবাব দেয় না! সোনারা তোমাদের নিচে নামতে হবে না, এবাড়িতে একটা হুলো বেড়াল থাকে। বেড়ালটা ভীষণ দুষ্টু! আমি যখন ছোট ছিলাম ঐ বেড়ালটি একদিন আমার উপর হামলা করেছিল। একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে ছিলাম। তোমাদের উপর যে হামলা করবে না তাতে সন্দেহ নেই। তাই খবরদার নিচে নামবে না বাছারা। ছানারা ভয় পেয়ে বলল, কি সাংঘাতিক ব্যাপার! না মা আমরা কখনই নিচে নামব না। এদিকে লোভী বেড়ালটা প্রায় সময় কাঁঠাল তলায় ঘুরঘুর করে। মা শালিকের বাসার দিকে গলা উঁচু করে ঢ্যাব ঢ্যাব চোখে নজর দেয়। আর জিহ্বা বের  করে ঢোক গিলে। ছানা দুটো খাওয়ার লোভ সামলাতে পারে না। মা শালিকের চেষ্টায় ছানা দুটি চতুর হয়ে উঠেছে। দুষ্টু বেড়ালকে দেখা মাত্রই এক লাফে বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ে। ওদের কান্ড দেখে বেড়াল মনে মনে রাগে গজরাতে থাকে আর বলে, ক'দিন পালাবি আমার হাত থেকে একদিন তোদের ধরবই। ছানারা বাসার মধ্যে হাসে আর বেড়ালের ভঙ্গি দেখে বলে, তোমার সে আশায় গুড়েবালি। আবার হাসতে থাকে দুজন। মা শালিক ঘরে এলে একে একে সব কথা বলে দেয় তারা। মা শালিক খুব খুশি হয়।
এমন ভাবে দিন কাটে ওদের। একদিন মা শালিক ছানাদের রেখে খাবারে খোঁজে গেল। ছানাদের বারণ করল দুষ্টু বেড়ালের মিষ্টি কথায়, ভুলেও নিচে যেন না নামে। ছানারা মায়ের কথায় ঘাড় নাড়াল।
এদিকে চুপিচুপি বেড়ালটি কাঁঠাল গাছের নিচে ঘুরঘুর করতে লাগল। ছানা দুটি তখন মনের আনন্দে গান গায় ছিল। মিষ্টি গলায় বেড়াল ডাক দিল ছানারা নিচে এসো তোমাদের আজকে তাজা মচমচে কৈ মাছ ভাজা খাওয়াব। আমাকে বিশ্বাস  করতে পারো। আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করব না। আমায় বন্ধু ভাবতে পারো। ছানারা বেড়ালের চালাকি বুঝতে পেরে তখন মুখে মুখে ছড়া কাটে-
বেড়াল মামা বেড়াল মামা
এখন চলে যাও,
কৈ মাছের ভাজা তুমি
একায় বসে খাও।
খাব না খাব না আমরা
খাইছি অনেক কিছু,
দোহায় লাগে বেড়াল মামা
ছাড়ো মোদের পিছু।  
ছানাদের এমন কথায় বেড়াল রেগে গেল। রাগের চোটে মোটা কাঁঠাল গাছ বেয়ে উঠতে লাগল উপরে। উঠতে গিয়ে সেকি নাজেহাল অবস্থা ! বেড়ালের নরম চামড়া গেল ছিলে। ছানারা বেড়ালকে উঠতে দেখে আরো উঁচু ডালে গিয়ে বসল। এদিকে বেড়ালের চামড়া ছিলে যাওয়ায় আর ভারসাম্য ঠিক  রাখতে না পেরে ধপাস করে নিচে পড়ল। আর জীবনে ভুলে গেল শালিকের মাংশ খাওয়ার কথা।