কুকুর শেয়ালের পলিটিক্স

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২৮ আগষ্ট ২০২০

রাকিবুল হাসান রাকিব: কুকুর আর শেয়াল বনজঙ্গল তাদের দখলে নিতে ঐক্যজোট হওয়ার সিন্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত নিতে দু’পক্ষই জঙ্গলের একটা নিরব স্থানে মিটিং এ বসে। আর তাদের দু’জনের এই গোপন মিটিং একটা হরিণ দেখে ফেলে এবং সেই খবর অন্য বন্য প্রাণিদের জানিয়ে দেয়। শকুন হরিণের কাছ থেকে শোনা খবর কুকুর আর শেয়ালকে জানিয়ে দেয়। খবরটি শোনার পর কুকুর আর শেয়াল সিন্ধান্ত নেয় হরিণকে ধ্বংস করে দিতে। তাই একদিন পরে হরিণের এলাকায় ঢুকে পড়ে তারা। তাদের হামলায় অনেক হরিণ মারা যায়। এছাড়াও নানারকম অত্যাচার করে অসহায় হরিণদের। এরপরও বুদ্ধি করে কয়েকটি হরিণ শিকার করে দিয়ে এলো বাঘ আর সিংহকে। হরিণ পেয়ে তারা বেশ প্রসংশা করল। বাহ্! বাহ্! বেশ ভালো হয়েছে। পরদিন সকালে শকুনও হরিণের এলাকায় ঢুকে মরা মাংস খায়, হেসে হেসে বলে বাহ্ খুব সুস্বাদু। আর এসব দূর থেকে কিছু অসহায় হরিণের বাচ্চা চেয়ে চেয়ে দেখে। অসহায় হরিণরা এ ব্যাপারে হাতিকে বিচার দেয়। তারা বলে তাদের এলাকায় কুকুর আর শেয়াল হামলা করেছে। তিনি যদি চান তবে, তারা একটু শান্তিতে থাকতে পারবে। একদিন পরে হাতি বিচার সভা ডেকে শিয়াল আর কুকুরকে বলে, তারা যেন আর হরিণের ওপর হামলা না করে। আর তাদেরকে শাস্তি দেয়। বাড়ি ফিরে তারা হাতির ওপর হামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক দু’দিন পরে তারা হাতির এলাকায় রাতে ডুকে পড়ে। কুকুর আর শেয়ালের দল ঐক্যজোট হয়ে হাতির এলাকায় সারারাত অভিযান চালিয়ে অনেক হাতির বাচ্চা মেরে ফেলে শেয়াল আর কুকুর বাঘ আর সিংহের আশ্রয় নেয়। বাঘ আর শেয়াল বলে  সমস্যা নেই। হাতিরা তাদের এখানে কিছু করতে পারবে না। তাদের আশ্বাসে কুকুর আর শেয়াল খুব খুশি হয়। হামলার পর হাতিরা খুব রাগান্বিত হয়ে তদের খুঁজতে এসে নিজেরাই বন্দি হয়। কুকুর আর শেয়ালের বুদ্ধির কাছে হাতিরা হেরে যায়। এই এলাকাও তাদের দখলে আসে।

এবার তারা আবার একটা মিটিং করে। কিভাবে বাঘদের বন্দি করা যায়। কুকুর আর শিয়াল প্রতিদিন হরিণ শিকার করে সিংহকে উপহার দেয়। শিয়াল একদিন সিংহের জন্য হরিণ শিকার করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঘ শিয়ালকে আক্রমণ করে সিংহের খাবার খেয়ে ফেলে। এদিকে প্রচন্ড ক্ষুধার্ত সিংহ শিকারের জন্য অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে শিয়াল এসে সিংহকে বলে তার জন্য নিয়ে আসা খাবার বাঘ খেয়ে ফেলেছে। এ কথা শুনে সিংহ গর্জন করে ওঠে, কী? আমার আহার খেয়ে ফেলেছে? যাও সবাই গিয়ে ওদের আক্রমণ কর। কুকুর আর শেয়াল সিংহদের সাথে নিয়ে বাঘের ওপর হামলা করে অনেক বাঘকে মেরে ফেলে এবং তাদের একটা এলাকায় বন্দি করে রাখে। এই ঘটনার পর কুকুর আর শিয়ালের সাহস আরো বেড়ে গেল। তারা বনের চার ভাগের তিনভাগ দখল করে নিয়েছে। তারা আবার মিটিং করে, কিভাবে সিংহকে বন্দি করা যায়। বুদ্ধি করে সিংহকে হরিণের গোসতের দাওয়াত দেয়। সিংহ খুশি হয়ে দাওয়াত খেতে চলে। পথে  খরগোশের সাথে দেখা হলে, খরগোশ বলে, মামা আজ এতো সেজেগুজে কোথায় যান? দাওয়াত আছে, জানায় সিংহ। কোথায়? কুকুর আর শিয়ালের এলাকায়। এটা শুনে খরগোশ বলে, মামা তারা ক’দিন আগে মিটিং করেছেন আপনাকে বন্দি করে রাখার। সিংহ হেসে উড়িয়ে দেয়, বলে আরে না, তারা সবাই আমার কথায় উঠে বসে। খরগোশ তখন বলে, আচ্ছা যান। তবে একটু সাবধান। সিংহ খুব আনন্দের সাথে পৌঁছে গেলো কুকুর আর শিয়ালের এলাকায়। তাদের  সুন্দর আয়োজন দেখে সিংহ মামা খুব খুশি। শিয়াল বলে, মামা দেখেন। কতো সুন্দর ঘর বেঁধেছি আপনার জন্য। আপনি আরাম করে বসেন, আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসি। বলে সবাই বের হয়ে এসে ঘর আটকে দেয়। কুকুর আর শিয়াল হেসে হেসে বলে, খুব মজা। আজ থেকে সমস্ত বন-জঙ্গল আমাদের দখলে। সিংহ গর্জন করে করে রাগে কাঁদতে থাকে নিজের বোকামির জন্য।  অন্যদিকে চালাক শিয়াল আর কুকুর ঢাক-ঢোল নিয়ে সারা বনে গান গেয়ে নাচে, হাসে আর বলতে থাকে এই বনের রাজা আমরা। সবকিছু আমাদের দখলে।