দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ায় আক্রান্ত টয়লেট্রিজ সামগ্রী

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২, ০৭:৩১ বিকাল
আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২, ০৭:৩১ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

নাসিমা সুলতানা ছুটু: দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ায় আক্রান্ত টয়লেট্রিজ সামগ্রী ও ঘর পরিষ্কার রাখার উপকরণ। খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন কোম্পানীর কাপড় ধোয়া এবং গায়ে মাখার সাবানের দাম প্রতি মাসেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে টিস্যু এবং ঘর পরিস্কার রাখার উপকরণ।

গত ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট ও টয়লেট ক্লিনারের দাম ১০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের এই পণ্যগুলিও কেনার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীরা জানান, কাঁচামাল, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তারা এসব পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে ক্রেতারা বলছেন, সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি তাই তারা পারছেন না আয়-ব্যয়ের সমন্বয় করতে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাপড় কাঁচার হুইল সাবান এক মাসের ব্যবধানে ১৮ টাকা থেকে বেড়ে ২৪টাকা হয়েছে, এক কেজির ৭০ টাকার পাউডার বেড়ে হয়েছে ৯০টাকা, ৯৫ টাকার এক কেজির রিন পাউডার বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। এছাড়া সব কোম্পানীর বিভিন্ন মাপের কাপড় কাঁচার সাবান এবং গায়ে মাখার সাবান প্রতি পিসে বেড়েছে ৫ থেকে ১০টাকা। এছাড়া নিম্নবিত্তদের কাপড় কাঁচার জন্য বগুড়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি নর্থবেঙ্গল সোপের দামও গত ৬ মাসে ৬ থেকে ৭টাকা বেড়ে খুচড়া পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫টাকায়।  

শহরের সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার ইসলাম জানান, তার পরিবারে ছোট-বড় মিলে সদস্য সংখ্যা ৭জন। ৭ সদস্যের জন্য মাসে তাদের ১কেজি ডিটারজেন্ট, ৬টি কাপড় ধোয়ার ও ২টি গায়ে দেয়ার সাবান, ৩টি টয়লেট টিস্যু, ৫০০ গ্রামের একটি হারপিক ও ২টি বড় ভিমবার প্রয়োজন হয়। সবমিলে আগে মাসে ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা লাগতো। কিন্তু গত ছয় মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়া এখন মাসে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা লাগছে। এছাড়া চাল-তেল-ডাল, আটাসহ অন্যান্য পণ্যেও বাড়তি খরচ লাগছে। কিন্তু গত দুই বছরে তার পরিবারে আয় এক টাকাও না বেড়ে বরং কমেছে। তার স্ত্রী আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো, এক বছর আগে সেও কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এদিকে তার আয়ও বাড়েনি। মনোয়ারের মত কাটনারপাড়া এলাকার গৃহবধূ নাজনীন আকতার জানান, বাজারে এসে প্রতি মাসেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছি এসব নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে। গত ক’মাস থেকেই এই অবস্থা চলছে। বাড়ি থেকে হিসেব করে টাকা নিয়ে এসে বাজারে আর হিসেব মিলাতে পারি না। তাই সবকিছু প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হয়। হতাশ কণ্ঠে নাজনীন বলেন, কাপড় কাচা বা ঘরদোর পরিস্কারেও এখন আমাদের ব্যয় সংকোচন করে মিতব্যয়ী হতে হবে।

বগুড়ার রাজা বাজারের ব্যবসায়ী মিনহাজুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ১৫০ গ্রাম ওজনের লাক্স সাবানের দাম ছিল ৫৫ টাকা। এখন তা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশ, ১শ’ গ্রামের লাক্স সাবান ৩০ টাকা থেকে ৫২ টাকা হয়েছে। মিনহাজের পাশের দোকানী মতিন পশারী জানান,গত মাসে ১ কেজি হুইল ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ছিল ১০০ টাকা, যা এখন ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, তিব্বত ওয়াশিং পাউডার মে মাসে ১০০ টাকা ছিল এবং এর দাম বেড়ে এখন ১১০ টাকা হয়েছে। রিন পাউডার ১শ টাকা থেকে বেড়ে ১৫টাকা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা যে দামে কিনে আনছি তা থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করছি। এছাড়া পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে অনেক। নর্থ বেঙ্গল সোপ্ ফ্যাক্টরির স্বত্ত্বাধিকারী মাহাবুব আলম মুনসুর জানান, তাদের কোম্পানীর সাবান তৈরির মূল উপাদান পামওয়েল, সিলিকেট, কস্টিক ও নারিকেলের তেল। এসব প্রতিটি পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি কাঁচামালের দাম বাড়তেই থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না’।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়