পোড়ামাটির ঘোড়া, কাঁচামাটির লেজ

প্রকাশিত: আগস্ট ০৩, ২০২২, ১২:৩৬ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ০৩, ২০২২, ১২:৩৭ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

ভারতের বাঁকুড়ার ঘোড়া পোড়ামাটি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। তবে পাতার মতো আকৃতিবিশিষ্ট কান ও লেজ কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার পাঁচমুড়া গ্রামে এই বিশেষ শিল্পদ্রব্যটি তৈরি হয়। এগুলো শিল্পরুচিবোধ সম্পন্ন মানুষের কাছে নন্দিত। এগুলি মূলত গ্রাম্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এই ঘোড়া ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অল ইন্ডিয়া হ্যান্ডিক্র্যাফটস সংস্থার লোগোতেও বাঁকুড়ার ঘোড়ার ছবি ব্যবহৃত হয়।

টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পদ্রব্য আদিম মানবসভ্যতার শিল্পপ্রচেষ্টার প্রতীক। যদিও ধর্মীয় প্রথা ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে এর সম্পর্কের আরো গভীর। ভারতে পোড়ামাটির শিল্পদ্রব্যের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। আধুনিককালে অবশ্য বাণিজ্যিকভাবে বিশ্ববাজারে স্থান পেতে মৃৎশিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিমূর্ত শিল্পচেতনার সঙ্গে শহুরে রুচির মিলন ঘটিয়ে থাকেন।

পাঁচমুড়ার ঘোড়াগুলোকে চারটি ধাঁচের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বলে মনে করা হয়

বাঁকুড়ার পোড়ামাটির ঘোড়া নির্মাণের প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলি হল পাঁচমুড়া, রাজাগ্রাম, সোনামুখী ও হামিরপুর। প্রত্যেক শিল্পকেন্দ্রের নিজস্ব স্থানীয় ধাঁচ ও শৈলী আছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচমুড়ার ঘোড়াগুলোকে চারটি ধাঁচের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বলে মনে করা হয়।

উইকিপিডিয়ার তথ্য, বাঁকুড়ার ঘোড়া অভ্যন্তরভাগ ফাঁপা হয়। এর বিভিন্ন অংশ পৃথক পৃথকভাবে কুমোরের চাকায় নির্মিত হয়। চারটি পা ও দীর্ঘ গলা দুটি অংশে এবং মাথাটি সাতটি অংশে নির্মিত হওয়ার পর সেগুলিকে এক সঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়। অনেক সময় ফাটা অংশগুলি ঢাকতে বাড়তি মাটি দেওয়া হয়। পাতার মতো আকৃতিবিশিষ্ট কান ও লেজ কাঁচামাটি দিয়ে তৈরি করা হয়। পরে এগুলি মূল ঘোড়ার দেহের তিনটি গর্তে স্থাপন করা হয়। মূল মাটির ঘোড়াগুলি রোদে ফেলে শুকানো হয়। খানিকটা শুকানোর পরে বিভিন্ন অঙ্গ ঠিক ভাবে ঘোড়ার দেহে বসানোর জন্য দেহের ভিতরের ও বাইরের অংশের গর্তগুলি তৈরি করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল, উভয় অংশকে সমভাবে শুকানো। উভয় অংশ সমভাবে না শুকালে ঘোড়ার দেহে ফাটল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রথম দিকে ছয়-সাত দিন বন্ধ ঘরে শুকানোর পর এগুলিকে রোদে শুকানো হয়। শেষে এগুলিকে আগুনে পোড়ানো হয়।

বাঁকুড়ার পোড়ামাটির ঘোড়াগুলি সাধারণত দুই প্রকার রঙের হয়ে থাকে - লাল ও কালো। বাঁকুড়ায় পোড়ামাটির ঘোড়া সাধারণত পটুয়ারা সৃষ্টি করে থাকেন। শতাব্দীর ব্যবধানের সঙ্গে সঙ্গে এই সৃষ্টি বাস্তব প্রতিমূর্তি সৃজন থেকে প্রতীকী সৃজনের পর্যায়ের উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের পটুয়া-শিল্পীরা এক এক রকমের পশুঅঙ্গ নির্মাণ করে থাকেন, যাতে সমগ্র পশুর দেহের বদলে অঙ্গগুলিই বিশেষভাবে প্রতিভাত হতে পারে।

 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়