ফের সুদিন ফিরুক  পাল পাড়ার

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২২, ০৪:৪৯ দুপুর
আপডেট: জুন ১৫, ২০২২, ০৪:৪৯ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচণ্ড রোদে পোড়ামাটির গন্ধ পাওয়া যাবে গ্রামের খানিকটা দূর থেকেও। বাতাসে ভেসে ভেসে বেশ দূরে পৌঁছে যায় সেই গন্ধ। ছোট খালের পাড় দিয়ে বয়ে চলা আকাঁবাকাঁ মেঠো পথের অদূরেই সেই গ্রাম। পথের দুধারে সবুজের সমহার। সেই পথের ধারের বাড়িগুলোতে চোখে পড়ে মাটির বানানো নানা তৈজসপত্র। পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রামের পাল পাড়ায় গেলে দেখা মিলবে এই মৃৎশিল্প।

 

পিরোজপুরের মৃৎশিল্পের ইতিহাস বহু পুরোনো। এখানকার ইতিহাস, প্রাচীন রাজা-রাজরাদের গল্পগুলো একটু নাড়াচাড়া করলেই জানা যাবে মাটি দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের নানান কাজের কথা। ভাস্কর্য নির্মাণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষ যুগে যুগে মাটি দিয়ে তৈরি করেছে তৈজসপত্র। এখানে পাল সাম্প্রদায়ের প্রায় ১৫০টি পরিবার শত শত বছর ধরে বসবাস করছে।

 

এ সম্প্রদায়ের প্রধান জীবিকা মৃৎশিল্প। কুমার পল্লীর শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নারী-পুরুষ সবাই এ কাজ করেন। বছরের পর বছর তাদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় মাটির হাড়ি, সানকি, থালা, কলসসহ নানা সামগ্রী। এসব সামগ্রী এক যুগ আগেও ছিল বড় অংশের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। তবে আজ মেলামাইন, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম দখল করে নিয়েছে মাটির জিনিষের জায়গা। তবু ঐতিহ্য নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন এখানকার কিছু মানুষ।

 

 

নিশ্চিহ্নপ্রায় একটি শিল্পকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন এ এলাকার মৃৎশিল্প। পুরো পাল পরিবার এই কাজে নিয়োজিত। নারী-পুরুষ সবাই কাজ করেন এখানে। মাটির শিল্পে সাজান তাদের স্বপ্নগুলো।

 

তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পণ্য শহরে আনা-নেয়ার খরচ বৃদ্ধিসহ নানান প্রতিকূলতা তাদের মধ্যে তৈরি করছে হতাশা। তাইতো শিল্পটি যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে! এর ওপরে করোনা ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব করেছে মৃৎশিল্পীদের অনেক পরিবারকে।

 

তবে বছরের অধিকাংশ সময় তারা বেশ দুরবস্থায় থাকলেও গ্রাম-গঞ্জের মেলা ও পূজা-অর্চনা আসলেই তারা কয়েকদিনের জন্য ধার-দেনা পরিশোধের সুযোগ পায়। তখন কর্মমূখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎশিল্প পল্লী।

 

পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রামের পাল পাড়া।এই পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, আট বছরের শিশু নয়ন পাল থেকে শুরু করে বয়স্কা রাধারানী পাল, সত্তোরোর্ধ সুধির পাল, শুশিল পাল সবাই কাজে মহাব্যস্ত। চাকা ঘুরিয়ে খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত অনিল পাল। কাঠের তক্তার ওপর তৈরি খেলনাগুলো শুকানোর কাজে ব্যস্ত আছে কেউ কেউ। কথা বলার কোনো সুযোগ নেই, তবুও কাজের ফাঁকে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

 

তারা প্রত্যেকেই দাবি করেন, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা হোক। নয়ত অচিরেই হারিয়ে যাবে মূলগ্রামের পাল পাড়ার এই পোড়ামাটির গন্ধ। তারা চিন্তিত, মূলগ্রামের পাল পাড়ার সুদিন কি ফিরবে? তারা স্বপ্ন বোনো, ফের সুদিন ফিরবে মূলগ্রামের পাল পাড়ার।

 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়