মায়ের উপদেশ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২১

মিনহাজ উদ্দীন শরীফ: ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মা ঘুম থেকে জেগে বাড়ির কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল। মা অনবরত ডেকে যাচ্ছে ছোট্ট মেয়ে অহনাকে যাতে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে হোমওয়ার্ক করতে বসে। অহনা ঘুম ঘুম চোখে বলে মা আরেকটু ঘুমিয়ে নেই। আজ তো শুক্রবার স্কুল প্রাইভেট সব বন্ধ। মা বলল, ''এতো কথা আমি শুনতে চাই না তোকে উঠতে বলেছি এখন উঠতেই হবে"। অহনা বাধ্য হয়ে মায়ের কথামতো ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে সকালের নাশতা খেয়ে হোমওয়ার্ক করতে বসে গেলো। বাবারও আজ অফিস নেই তাই বাবাও এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। তাই অহনা মায়ের কাছে গিয়ে বলল, 'মা বাবা তো এখনো ঘুমে। তাহলে আমাকে এত সকালে উঠিয়ে দিয়েছো কেন? মা বলল,'ওরে বোকা মেয়ে তোর বাবা কতো কষ্ট করে জানিস'? তোর বাবা শুক্রবারেই ছুটি পায়। শুক্রবার ব্যতীত বাকি ছয় দিন অফিস করে। তুই জানিস অফিসের কাজ কতো কষ্টের! অহনা বলে,' বাবা তো শুক্রবারে ছুটি পায়। আমি তো তোমার হাত থেকে শুক্রবারেও ছুটি পাই না।

মা বলল, 'তোর বয়সে আমরা সারাক্ষণ পড়তাম। তাইতো আজ শিক্ষিকা হতে পেরেছি। অহনা বলল,'মা আমার মতো তোমার মা এভাবে শাসন করতো নাকি? মা বলল, 'অহনাকে আমরা বাবা মায়ের কথা মতো পড়ালেখা করেছি। এখন তো তোরা বাবা মায়ের কথাই শুনিস না। হাজার বার বলেও পড়াতে বসাতে পারা যায় না। অহনা বলল,'মা আমিও তো সারাক্ষণ পড়তে বসি'। আর তোমার কথাও তো শুনি। তুমি তো খেলাধুলা করতেও বাহিরে যেতে দাওনা। বাহির একা যেতেও বারণ করো। শুধু বলো বাহিরে বিপদ আর বিপদ। এই বলে ঘরে থাকতে শুধু বলো,ঘর বন্দী হয়ে কী বাঁচা যায় মা! তুমিও বলো না।

মা বলে,আমি কী কখনো তোর খারাপ চাই মা? আমি তোর সবসময় ভালো চাই। এইজন্যই তো শাসন করি। মায়েরা সবসময় সন্তানের মঙ্গলের জন্যই শাসন বারণ করে। যার জন্য আমিও তোকে করি। আজ বুঝবি না, যেদিন তুইও মা হবি সেদিন বুঝবি। যাকগে এখন পড়ায় ফাঁকি দিলে,ভবিষ্যতে তুই ঠকে যাবি। আমি চাইনা পরে তুই এই ভেবে আফসোস করিস। তাইতো এতো শাসন-বারণ করি। অহনা মাকে বলল, 'মা পড়া ছাড়া আর কিছুই তোমার মুখে আসে না। মা রেগেমেগে বলল,'তুই পড়লেই কী আর না পড়লে আমার তাতে কী! তোর যা ইচ্ছে তাই কর গিয়ে। হঠাৎ বাবা সেখানে হাজির হলো। অহনা বাবাকে জড়িয়ে বলে," তুমিই বলো বাবা আমি পড়তে বসি কি-না। বাবা বলল, 'কে বলে আমার মেয়ে পড়তে বসে না'। আমার মেয়ে পড়ে বলেই তো ক্লাসের ফাস্ট গালস হয় প্রতিবছর। মা তখন বলে যেমন মেয়ে তেমন বাবা!আরও মাথায় তুলো মেয়েটাকে।

অহনাকে বাবা-মাকে বলে, 'বাগান দেখতে গেলো। সেখানে দেখে একটা ফুল ফুটে আজে অন্য ফুলের থেকে একদম আলাদা তাই এগিয়ে গেলো। অহনা হাত বুলাতে গেলে। তখন মৃদু স্বরে বলল,' অহনা তুমি আমাকে ধরতে যেওনা'। অহনা এদিকে-ওদিকে খুঁজছে। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। তারপর অহনা বলল, 'তুমি কে? কোথায় থেকে কথা বলছো'? ফুলটা বলে,'আমি ফুলপরি। আমি তোমার সামনেই আছি। আমি ফুলের পাপড়িতে আটকে গেছি। অহনা বলে, 'ওহ! তাহলে তুমি এই ফুলের ভেতর থেকে কথা বলছো। ফুলপরি বলে হ্যাঁ বন্ধু। অহনা বলল, 'তুমি এই ফুলের মধ্যে কী করে আটকে গেলে? ফুলপরি বলল, 'আমি মায়ের সাথে বাগানে বাগানে ওড়ে বেড়াতাম। মা আমাকে বারণ করতো একা একা যাতে কোথাও না যাই। মায়ের কথা অমান্য করে আমি একদিন একটা বাগানে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তখন একটা যাদুকর আমাকে ধরে ফুলের মধ্যে বন্দী করে দিয়েছে। এই ফুলটা যাদুর, এই ফুলটা অন্যকোনো সাধারণ ফুলের মতো না। তুমি জানো বন্ধু আমি যদি মায়ের কথা শুনতাম তাহলে আজ এই বিপদের সম্মুখীন হতাম না। অহনা বলে যা হবার হয়েছে।

এখন বলো, 'তোমাকে  আমি কী করে মুক্ত করব? ফুলপরি বলল,'কোনো মা যদি আমাকে চন্দন জলে এই পাপড়ি গুলো ধুয়ে দেয় তাহলে মুক্তি পাবো। একথা যাদুকর যাওয়ার পূর্বে বলেছিল। অহনা বলল,'তুমি চিন্তা করো না আমার মাকে নিয়ে আসছি তোমাকে মুক্তি করার জন্য। অহনা,'এই ঘটনা মাকে গিয়ে বলল,'মা বলল,'দেখলি আমি তোকে কেন বাহিরে খেলা করতে বারণ করতাম। এখন মা চলো না আমার বন্ধুকে মুক্তি করতে। মা বলে,' চল্ পাগলি!অহনার কথামতো মা চন্দন জলে যেইনা ফুলের পাপড়ি গুলো ধুয়ে দিলো। তখনই ফুল থেকে ফুলপরি বাহিরে এলো। ফুলপরি, অহনা আর মায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলো। ফুলপরি চলে যাওয়ার আগে অহনাকে বলল,'অহনা আমি মায়ের কথা না শুনাতে দেখলে তো কী বিপদে পড়েছিলাম। তুমি কিন্তু মায়ের কথা সবসময় শুনবে। কারণ মায়েরা সন্তানের মঙ্গলের জন্য শাসন করে। মায়েরা সন্তানের অমঙ্গল কখনো চায় না। অহনা বলল,' বুঝতে পেরেছি,আর কখনো আমি মায়ের কথা অমান্য করব না। ফুলপরি খুশি হয়ে অহনা আর মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো নিজের মায়ের কাছে।