ইজিবাইক অভিশাপ থেকে বাজাজ রানার থ্রি-হুইলার আশির্বাদ

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

রুহুল আমিন। বয়স ২৬ বছর। বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। বিগত ২ বছর ধরে সে একট চায়না ইজিবাইক চালাতো।  তার আগে জীবিকার তাগিদে একটি হোটেলে মেসিয়ারের কাজ দিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্ত এই কাজ করে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যায় রুহুল আমিনের জন্য। তাই সংসারে সচ্ছলতার জন্য কিছু টাকা জমিয়ে আর কিছু টাকা ধার করে সে একটা ইজিবাইকটি ক্রয় করে। কিন্তু সেই ইজি বাইক রুহুল আমিনের জীবন ইজি করার বদলে আরও বেশি ঝামেলাপূর্ন করে তুললো। প্রথম ৪ মাসের মাথায় ইজিবাইকের চাকা গেল নষ্ট হয়ে। বের হয়ে গেল অনেকগুলো টাকা। এরপর সবচেয়ে  বড় ধাক্কাটা খেল, যখন ৯ মাসের মাথায় গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেল । রুহুল আমিনের তো মাথায় হাত, এখন আবার এতগুলো টাকা কোথা থেকে যোগার করবে? উপায়ন্ত না দেখে আবারো সমিতির থেকে লোন নিয়ে ব্যাটারি কিনলো। ক্রমাগত পার্টস বদলানো এটা তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়ালো। রুহুল আমিন পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে। লাভের হিসাব কোনভাবেই মেলাতে পারেনা, উলটো ক্রমাগত লস হচ্ছিল। এই ইজি বাইক দিয়ে কিভাবে তার জীবন চালাবে, সেটার কোন উপায়ন্ত না বের করতে পেরে ক্রমাগত হতাসাগ্রস্থ হয়ে পড়ছিল রুহুল আমিন।

এভাবে দিন চলতে চলতে একদিন  রুহুল আমিন তাদের ইজিবাইক মালিক সমিতির অফিসের দরজা ও দেয়ালে বাজাজ কোম্পানির এলপিজি গ্যাস চালিত থ্রি-হুইলারের ছবিসহ অনেকগুলো ষ্টিকার লাগানো দেখতে পায়। তখন তার মনে পড়ে, ষ্ট্যান্ডের অনেক ইজিবাইক ও ওয়ার্কশপে বাজাজ কোম্পানির এই ষ্টিকার লাগানো সে দেখেছিল, আর এও দেখেছিল কোম্পানির লোকেরা ষ্ট্যান্ডের অনান্য ইজিবাইক চালকদের সাথে কথা বলছিল। ষ্টিকারে লেখা ছিল, কিস্তি সুবিধায় বাজাজ শোরুম থেকে গাড়ি নেওয়া যায়। রুহুল আমিন আশার আলো দেখতে পায়। আর দেরি না করে তখনই চলে যায় রানার বাজার শোরুমে। সেখানে রানার এর বিক্রয় প্রতিনিধী রুহুল আমিনকে ভালোভাবে এই গাড়ি সমন্ধে বলে এবং ইজিবাইকে কিভাবে লস হয় তা হিসাব করে বুঝিয়ে দেয়। সত্যটা সে বুঝতে পারে। রুহুল আমিন তখন দুরুদুরু মনে ভাবে, সবই তো বুজলাম, কিন্তু বাজাজের গাড়ী কি আমি এত টাকা দিয়ে নিতে পারবো? এত টাকা আমি কোথায় পাব? রুহুল আমিনের মনের অবস্থা রানার এর বিক্রয় প্রতিনিধী বুঝতে পেরে, তাকে বলে যে, সে যেটা ভাবছে, সেটা না। তাদের মতো মানুষের কথা চিন্তা করেই, রানার নূন্যতম ডাউনপেমেন্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধায় বাজাজ আর ই এলপিজি গাড়ী দিচ্ছে। এই কথা শুনে রুহুল আমিনের মনে হলো সে যেন অমাবশ্যার চাঁদ হাতে পেল, খুশিতে তার চোখে পানি চলে আসলো। 

আর দেরি করলো না রুহুল আমিন। ইজিবাইকটি ৪ দিনের ভিতর বিক্রয় করে দিয়ে এবং জমানো কিছু টাকা একত্র করে রানার বাজাজের নির্ধারিত ডাউনপেমেন্ট জমা দিয়ে বাজাজের আর ই এলপিজি গাড়ি ক্রয় করে। 

বাজাজের গাড়ী ক্রয়ের পর থেকে, আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো দিন কাটাচ্ছে রুহুল আমিন। দূরের এবং রাতের ট্রিপগুলো মারতে পাড়ছে। ভাড়াও ভালো পাচ্ছে। এলপিজি পাম্প সবকটি উপজেলায় থাকায় অনেক সুবিধা। গ্যস ভরবার কোনরকম চিন্তা ছাড়াই পাড়ি দিতে পারছে অনেক পথ একেবারে নিশ্চিন্তে। যার জন্য অনেক ভালো কামাই হচ্ছে। যে সচ্ছলতার কথা রুহুল আমিন সব সময় ভাবতো, আজ তার সে দিন এসেছে। পরিবারবর্গ নিয়ে অনেক সুখে দিন কাটছে তার। 

রুহুল আমিনের এই খুশি এবং লাভ দেখে তার ই চেনা জানা অনেক ইজিবাইক ড্রাইভার বাজাজ আর ই এলপিজি গাড়ি কেনার চিন্তা করছে।