বিলুপ্ত নীল গাইয়ের শাবক নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাফারি কর্তৃপক্ষ

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিকারির লোভ আর বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় নীল গাই। তবে নীল গাইয়ের নতুন শাবক জন্ম নেওয়ায় এই প্রজাতির বংশ বিস্তার নিয়ে আশাবাদী গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ। পার্কে জন্ম নেওয়া নীল গাইয়ের দুইটি শাবক সুস্থ এবং সবল রয়েছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, নীল গাই ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় আকৃতির এন্টিলোপ। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্রে নীল গাই বেশি দেখা যায়। তবে এটি দেশের বিলুপ্ত প্রাণিদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রাণি। ইংরেজিতে ব্লু বুল নামে পরিচিত।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের আগে দেশে নীল গাইয়ের বিচরণ ছিল। তৃণভোজী এ প্রাণিটি শিকারিদের লোভী মানসিকতা, যত্রতত্র ভাবে জবাই করে, মেরে খেয়ে ফেলা এবং বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এ অবস্থায় গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মনাকষা এলাকা থেকে জবাই করার প্রস্তুতির সময় বিজিবি সদস্যরা একটি স্ত্রী নীল গাই উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে হস্তান্তর করেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার জোত বাজার এলাকা থেকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি পুরুষ নীল গাই উদ্ধার করে বনবিভাগ। শিকারিদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া দুইটি পুরুষ ও মাদি নীল গাই সংগ্রহ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে রাখা হয়। এ দুইটি নীল গাই থেকে ১১ মাস পর গত ১ আগস্ট জন্ম নেয় দুইটি শাবক। পার্কের লোকজন এবং কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কোর সাফারিতে মা বাবার সাথে অবাধ বিচরণ করছে শাবক দুইটি। খাচ্ছে ঘাস, তৃণলতাসহ পার্কের দেওয়া খাবার।

তবিবুর রহমান আরও জানান, পুরুষ নীল গাই দেখতে ধূসর, অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ করা হয়েছে। পুরুষ নীল গাইয়ের উচ্চতা ৫২-৫৮ ইঞ্চি এবং মাদি নীল গাই বাদামি রঙের হয়ে থাকে। এদের গর্ভধারণ কাল ২৪৩ দিন এবং একসাথে ১-৩টি বাচ্চা হয়। এরা ছোট ঝুপ বা বিক্ষিপ্ত গাছের মধ্যে থাকতে ভালবাসে। এদের গড় আয়ু ২১ বছর। প্রাকৃতিক পরিবেশে শাবক জম্ম নেওয়ায় বিলুপ্ত এ প্রাণিটির বংশ বিস্তারে আমরা আশার আলো দেখছি এবং নিঃসন্দেহে এটি আনন্দের খবর।

পার্কের কর্মী সোহেল রানা জানান, দুইটি নীল গাই আনার পরে আমরা এগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখি। এরপর দুইটি শাবক জন্ম নেয়। বাচ্চা দুইটি লাজুক প্রকৃতির, সব সময় জঙ্গলের ভেতর থাকতে চায়। ওদের আমরা গাজর, বরবটি, শসা, ভুষি, ভুট্টা ভাঙা এবং ঘাস খেতে দিচ্ছি। এছাড়া কদম পাতা এরা খুব পছন্দ করে।