পরিবহন শ্রমিক শাহেদ স্বপ্ন দেখেন গান দিয়েই একদিন মানুষের হৃদয় ছোঁবেন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ‘তুমি কী দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়, তিলে তিলে তার ক্ষয়’ স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জোব্বারের গাওয়া এই গানটি শাহেদ যখন কোন মঞ্চে নিয়ে হাজির হন তখন মনে হয় এই গানটি যেন তারই জন্য রচিত । আবার কখনও মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে বসা তার স্ত্রী’র দিকে হাত উঁচিয়ে কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া ‘তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে হৃদয়ের কোঠরে রাখবো.....’ গানটি করেন তখন মূহুর্মূহু করতালিতে বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতে ওঠেন দর্শক। দেশের কিংবদন্তিদের গান নিয়ে দর্শক মাতানো শাহেদের গল্পটি একটু ভিন্ন ধরণের।

পেশায় পরিবহন শ্রমিক হলেও ৩৬ বছরের এই যুবক স্বপ্ন দেখেন একদিন গান দিয়েই তিনি দেশের মানুষের হৃদয় ছোঁবেন। আকাশ সমান জনপ্রিয়তা না পেলেও মানুষের মনে পৌঁছুতে পারবেন। বগুড়া শহরের মালতিনগরের বাসিন্দা শাহেদের ছোটবেলা থেকেই শখ ছিল বড় হয়ে গান করবেন। স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় যখন গান গাওয়ার জন্য নাম লেথাতেন কিন্তু গানের কোন তালিম না থাকায় শিক্ষকসহ সহপাঠীরা তাকে কটাক্ষ করতেন। তখনই জিদ চেপে যায়, আগে গান শিখবেন তারপর মঞ্চে উঠে গান করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। তখন থেকেই গানে তালিম নেওয়া শুরু করেন।গানের পোকা মাথায় থাকায় লেখাপড়াতেও বেশিদুর এগুতে পারেননি শাহেদ। এমন কী মাধ্যমিকের গন্ডিটুকু পর্যন্ত পেরোনো হয়নি। একদিকে গান, অন্যদিকে দারিদ্রতা। তাই খুব অল্প বয়সেই লেখাপড়া ছেড়ে পরিবহন বিভাগে কাজ নেন। পাশাপাশি গানের তালিম নিতে ভর্তি হন পদাতিকে। সেখানে কিছুদিন গান শেখার পর সেঞ্চুরী সঙ্গীত ও নাট্যগোষ্ঠীতে গান শেখেন। পাশাপাশি বগুড়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভর্তি হয়ে সেখানেও গানের তালিম নেন। বগুড়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শাহেদ গান পরিবেশন করেন। বিশেষ করে বৈশাখী মেলা, বাণিজ্য মেলা, স্বাধীনতা, বিজয় দিবস ও একুশের অনুষ্ঠানেও একাধিবার গান গেয়ে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া শাহেদের মৌলিক একটি গানের সিডি বের হয়েছে ২০১৪ সালের দিকে। ‘আমরা শ্রমিক এক সাথে এক দলে চলব’ এটিই শাহেদের মৌলিক গান। ‘রানা প্লাজা’ ধসের পর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বগুড়ার আরেক তরুণ মাহফুজার রহমান গানটি রচনা করেন। সুরও দেন মাহফুজার। শাহেদ জানান, মূলত শ্রমিকদের কষ্ট ও শপথ নিয়েই এই গানটি রচিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত গানটির অনেকগুলো সিডি বিক্রি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিবহন বিভাগে শাহেদ কাজ করলেও কোন নির্দিষ্ট গাড়িতে কাজ নেন না। মূলত তিনি ঢাকা-বগুড়া রোডের নৈশকালীন কোচগুলোতে হেল্পার হিসেবে কাজ করেন। শাহেদ জানান, তিনি হেল্পারগিরি করতেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কোন নির্দিষ্ট কোম্পানীর গাড়িও চালান না। নির্দিষ্ট গাড়ি কিংবা সুপারভাইজার হলে তাকে ধরাবাঁধাভাবে কাজ করতে হবে। এতে গানের অনুশীলনে বিঘœ ঘটবে। তাই সপ্তাহে চারদিন কাজ করেন বাকি তিনদিন গান করেন। দুই সন্তানের জনক শাহেদ স্বপ্ন দেখেন, ‘যে পেশায় কাজ করছেন এতে তেমন সম্মান ও পরিচিতি এবং ভালোবাসা না পেলেও গান দিয়ে একদিন সব কিছুই জয় করবেন।