বাড়ছে উদ্বেগ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যত

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ ৬ই অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এই সময়ে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে এই বন্ধের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ল। তাই এখন অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মনে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন , বাংলাদেশে কবে হবে এইচএসসি পরীক্ষা?

সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সেপ্টেম্বর নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পরীক্ষা না হওয়ায় কবে নাগাদ এই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করতে পারবেন, তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার থেকে একটি বছর হারিয়ে যাবে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

একদিকে সরকার যেমন এখনো এইচএসসি পরীক্ষার কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছেন না, তেমনি পাবলিক-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও পরিস্থিতির উন্নতি আর সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন টানা বন্ধের ঘটনা আর ঘটেনি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক  না হলে এইচএসসি পরীক্ষা হবে না বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘করোনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব। লাখ লাখ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারী একত্র হবেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এতে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক  না হলে পরীক্ষা হবে না, আমাদের সন্তানদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারব না।’

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা না দিতে পারায় শিক্ষার্থীদের সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। ফলে ক্ষুব্ধ একইসঙ্গে  উদ্বিগ্নও তারা। গত মার্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ায় চার মাস অলস বসে আছেন তারা। কবে নতুন তারিখ ঘোষণা হবে তাও অনিশ্চিত।

অভিভাবকরা জানান, এ বিষয়গুলো তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, হাঁপিয়ে উঠেছে ছেলেমেয়েরা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন অভিভাবক শাহমিকা শাহরিন অনামিকা বলেন, ‘পরীক্ষার আগে বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে মেয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক রেখেছিলাম। পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পর কলেজগুলো বন্ধ হয়ে গেল। এরপরও মনঃসংযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পড়াশোনাই ছেড়ে দিয়েছে, পড়তে বসতে বললে রেগে যায়, সারাদিন  গেমস খেলে।’

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বেলেন, আগামী মাসের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সিলেবাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। তখন সিলেবাস সংক্ষিপ্ত হবে, ক্লাস-পরীক্ষাও কমিয়ে আনা হতে পারে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা কমানো হবে। এক মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি এ বিষয়ে এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ১৫ দিনের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। নভেম্বরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার সূচি রয়েছে। এতে করোনার কারণে জট লেগে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন বলেন, যে পরীক্ষাগুলোর মাঝে দুই থেকে তিন দিন বিরতি ছিল, সেগুলো কমিয়ে এক দিন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই দীর্ঘ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। না হলে করোনার পর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে কঠিন হবে।