ঢাকা কলেজের হলে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ১২:৩৯ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২১

ঢাকা কলেজের হলগুলোতে দিনের বেলায়ও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। আটটি হলের অর্ধশত শিক্ষার্থী জ্বরের কারণে মেডিসিন নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশন বলছেন, একদিন পর পর ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

অধিক সময় জ্বলতে থাকে কয়েল। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে সবার মাঝে। বেশি চিন্তার ভাঁজ ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীদের। এরই মধ্যে মশারি টাঙিয়ে ভেতরে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।


জানা গেছে, সন্ধ্যার পর আবাসিক হলগুলোতে অতিমাত্রায় মশার উৎপাত দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা থেকে শুরু করে হলে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, পুরো ক্যাম্পাস এখন মশার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। মশার উপদ্রবে পড়ালেখা করতে পারছি না। পড়তে বসলেই মশার কামড়, তখন বইয়ের সঙ্গে লড়াই না করে মশার সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

আরও পড়ুন:  কিশোরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মারামারি, আহত ২০

উত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, কলেজের মশার কামড়ে অতিষ্ঠ আমার ক্যাম্পাস জীবন। মশার কামড়ে রাতে ঘুমাতেও পারি না। কী দিন কী রাত সারাক্ষণ মশার অত্যাচার। মশা পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরহাদ হোসেন হলের ছাত্রলীগ নেতা খায়রুল হাসু  বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে হলে এসে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেছেন, আগের চেয়েও বেশি। পরীক্ষা চলছে বেশ কয়েকটি ইয়ারের । এ ছাড়া চাকরির জন্যও বড় একটি অংশ পড়ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হঠাৎ ক্যাম্পাসের হলগুলোতে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। দিনের বেলায়ও মশার কামড়ে রুমগুলো থেকে উহ আহ শব্দ আসে। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষসহ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তারা অবশ্যই বিষয়টির প্রতি গুরুত্বের সঙ্গে নজর দেবেন। গণমাধ্যমে এখন ডেঙ্গুর মারাত্মকভাবে চোখে পড়ছে। আমরা চাই না মশার কারণে ডেঙ্গুর প্রভাব নেমে আসুক ঢাকা কলেজের হলগুলোতে। তার আগেই নেওয়া হোক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।  
 

ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রবে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। রাতে এ উপদ্রব আরও বাড়ে। মশার কারণে রাতে এমনিতে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হয়। কিন্তু এই উপদ্রব এতটাই বেশি যে, পড়াশোনা করা দায় হয়ে পড়েছে। মশার কামড়ে শরীরেও জ্বর জ্বর চলে আসছে। দ্রুত মশানিধনে ব্যবস্থা নিতে কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এ ছাত্রনেতা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আ স ম ফেরদৌস আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাধান্য দিয়ে একদিন পর পর মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ড্রেনগুলোতে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছি। ওষুধ ছিটানোয় ব্যত্যয় ঘটতে পারে। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নেব।

ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সব হল তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক এ টি এম মঈনুল হোসেন  বলেন, মশার উপদ্রব কমানোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের কাছে চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া ড্রেনগুলো মধ্যে কেরাসিন দেওয়া হয়েছে। এখন যে পরিমাণ স্প্রে করা হচ্ছে, তা আরও বেশি করে দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। তবে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি।