রবি শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১

সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তারা প্রতিবেদনটি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে প্রমাণ মেলায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল আজ সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে, সেদিন অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের সশরীরে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি আসেননি। তাকে ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সশরীরে কমিটির মুখোমুখি হতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিনি আসেননি। সর্বশেষ আমরা তার অনুপস্থিতেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বাধ্য হয়েছি। ঘটনার প্রেক্ষাপট, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং সিসিটিভি ফুটেজে শিক্ষক ফারহানা শুরু থেকেই অভিযুক্ত হন।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনায় তিনিই যে চূড়ান্ত ও একমাত্র অভিযুক্ত, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি চাকরির বিধিমালা (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী তাকে তিনবার সময় দেওয়া হলেও তিনি আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির বিধিমালা (শৃঙ্খলা-আপিল) অনুযায়ী প্রতিবেদনে তার শাস্তির জন্য সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় নিয়ে সভা মুলতবি করা হয়। বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি তদন্ত দল বিষয়টি তদন্ত করতে ক্যাম্পাসে আসবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষক ফারহানাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের দাবিতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে রবি ক্যাম্পাস। ২৪ অক্টোবর সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বিসিক মোড় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও কান্দাপাড়া এলাকায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুরের দিকে আন্দোলনরত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম হোসেন বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে একই বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবিদ হাসান নামের আরেক ছাত্র ব্লেড দিয়ে হাত কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে অন্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।