তীব্র যানজটে দুর্ভোগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

প্রথমবারের মতো আয়োজিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞান (এ) এর পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কিন্তু তীব্র যানজটে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয় পরীক্ষার্থীদের।

রোববার (১৭ অক্টোবর) দেশের অন্যান্য কেন্দ্রের মতো ১০ হাজার ৯১৫ পরীক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা শহরের একমাত্র কেন্দ্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়।

বড় পরিসরের সমন্বিত এই ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অংশ নিতে পারে সেই লক্ষ্যে সার্বিক ব্যবস্থা নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া, আসন বিন্যাস করা এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন পূর্ব প্রস্তুতি নেয় তারা।
 
কিন্তু ব্যত্যয় ঘটে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে। অনেক পরীক্ষার্থী সঠিক সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। এজন্য তারা ঢাকার তীব্র যানজটকে দায়ী করেছে। দেরীতে কেন্দ্রে প্রবেশ করাতে অনেক পরীক্ষার্থীকে ভেঙে পড়ে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
 
দেরীতে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের দ্রুত হলে পৌঁছে দেওয়াসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কাউট ও বিএনসিসি। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য পূর্ব থেকে অন্তত পরীক্ষাকালীন যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিতে পারত।
 
ফাহিম ফাহাদ নামের এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, আমি একা এসেছি। তীব্র যানজটের কারণে গুলিস্তান মাজার থেকে হেঁটে কেন্দ্রে এসেছি। তীব্র গরমে খুবই অস্বস্তি লাগছে।
 
মাহজাবিন নামের অরেক শিক্ষার্থী বলেন, তীব্র যানজট আর প্রচন্ড গরমে বাসে বসে থাকতে খুবই অস্বস্তি লাগছিল। ভেবেছিলাম সময়মতো কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবো না। কিন্তু একটু দেরী হলেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছি ভেবে খুবই ভালো লাগছে।
 
তাহেরা তন্নি নামের এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আগের নিয়মে কোনো দুর্ঘটনায় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা মিস হলে অন্য জায়গায় দিয়ে ভালো করবার সুযোগ থাকে। কিন্তু যানজটের কারণে পরীক্ষা খারাপ হলে ২০ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবো।
 
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইমদাদুল হক কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বলেন, সদরঘাটগামী এ সড়ক বরাবরই ব্যাস্ততম সড়ক। তার ওপর  অফিস আউয়ার হওয়াতে পরীক্ষার্থীদের যানজটে পরতে হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা শেষ সময় পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দিয়েছি। এবং বিবেচনা করে অনেকের সময় বাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছি।
 
উল্লেখ্য, ২৪ অক্টোবর মানবিক (বি) ইউনিট এবং ১ নভেম্বর বাণিজ্য (সি) ইউনিটে দুপুর ১২টা-১টা পর্যন্ত গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।