বেতন পাচ্ছেন না ৬ লাখ শিক্ষক!

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ১৪ মে ২০২০

কিছুদিন আগেও দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মুখরিত ছিলো শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে। হঠাৎ করেই গোটা বিশ্বে মারণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও।

প্রায় দুইমাস অতিক্রম হতে চললো বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খুলবে কবে সেই তথ্যও জানা নেই কারো। যার ফলে স্কুলগুলো শিক্ষার্থী শূণ্য। এ কারণে বেতনও নেই অনেক শিক্ষকদের। বলছি দেশের প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেনের ৬ লাখ শিক্ষক কর্মচারীর। বেঁচে থাকার তাগিদে তার এখন সরকারের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এসব স্কুলের মালিকরা বলছেন, করোনার কারণে শিক্ষকদের বেতনতো দূরের কথা, বাড়ি ভাড়া দিতে না পারার জন্য স্কুলই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলছেন, তাদের নিয়ে আপাতত ভাবা হচ্ছে না।

করোনার কারণে গত ১৬ মার্চ থেকে একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে কয়েকদফা বাড়ানো হয় বন্ধের মেয়াদ। আজ বৃহস্পতিবার আবারো দেশে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

এ পর্যায়ে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে আরও ১৪ দিন। পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন মিলিয়ে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে।

তবে সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের জন্য সীমিত পরিসরে শপিংমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। তবে আগামি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ সরকার প্রধান।

জানা গেছে, কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলোর বেতন হয় শিক্ষার্থীদের ফি আর টিউশনি থেকে। করোনার কারণে ফি আদায় করা যাচ্ছে না আবার নিষেধাজ্ঞার কারণে টিউশনিও করানো যাচ্ছে না। যার ফলে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষকরা।

স্কুল মালিকরা স্বীকার করছেন, মার্চ মাস থেকে শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছেন না তারা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছন কিন্ডারগার্ডের পরিচালনা করা এক প্রিন্সিপাল বলেন, এরইমধ্যে স্কুলগুলোর বাড়িওয়ালারা নোটিশ দিয়েছে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য। আমরা এখন বাড়ি ছেড়ে দিলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষৎ কী হবে?

অন্যদিকে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা এর মধ্যে বেতনও পেয়ে গেছেন। বঞ্চিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের দাবি, ঈদের আগে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা চান তারা।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষিত মানুষগুলো কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারে না। আবার উপার্জনও করতে পারছে না।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী জাকির হোসেন। বলেন, নিজেরটা নিয়েই পারি না। আর এগুলো নিয়ে কেমন করে করব। বেসরকারিতো বেসরকারিই। আমরা এখনও কোনো চিন্তা ভাবনা করিনি।