দেশে করোনার বিস্তার

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ১০ মে ২০২০

দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১২ হাজার ৪২৫ এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন গুচ্ছ গুচ্ছ ভাবে সংক্রমণ এলাকা বাড়ছে, তেমনি মৃদু লক্ষণ নিয়ে এখনো শনাক্তের বাইরে ৮০ শতাংশ রোগী ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠছে। এমনকি রোগটির যে উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ প্রবণতা, তাতে এমনিতেই দেশে করোনা পিকে বা চূড়ায় উঠতে কিছুটা বেশি সময় লাগবে। নামতেও সময় নেবে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। তার ওপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হওয়ার ও এসব উদ্যোগের বৈজ্ঞানিক দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়, করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের সব পথই খোলা। লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখার পরিবর্তে রাস্তায় নামার সব  ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব রক্ষার কথা বলে সামাজিকভাবে অনেক বেশি মেলামেশার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রোগটির সংক্রমণ বাড়ছে। অথচ মে মাসটা দেশে করোনার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ মাসে সংক্রমণের গতি শ্লথ করা বা ন্যুনতম হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে, রোগটির প্রকোপ কমতে অনেক বেশি সময় লাগবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা যদি সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে না পারি, যাদের করোনা হচ্ছে তাদের যদি আইসোলেশন না করতে পারি, আর কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো না করতে পারি, তাহলে ঘনীভূত মহামারির দিকে যাওয়া ছাড়া কোন পথ দেখছেন না। যেভাবে গার্মেন্টস কল-কারখানা দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট খুলছে, মানুষ মানুষের সঙ্গে যত বেশি মিশবে, ততই বিপদ বাড়বে। যেভাবেই হোক মিক্সিং যত বাড়বে, তত বিপদ হবে। কোয়ারেন্টাইন ও বেশি করে টেস্ট করে জেনে রাখা কারা রোগী, কাদের আইসোলেট করতে হবে। এর বাইরে এটা নিয়ন্ত্রণে আর কোন পথ নেই। এটা করলেই আমরা করোনাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারব। আর যদি এসব না মানি, এটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে না, তখন পরিস্থিতি নিয়তির ওপর ছেড়ে দিতে হবে।