পাঁচ কিলোমিটার দৃশ্যমান পদ্মাসেতু

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

আর স্বপ্ন নয়, পদ্মা তীরের মানুষের চোখে এবার বাস্তবেই ধরা দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। এই সেতু এখন বাংলাদেশ ও বাঙালির গর্বের প্রতীক। পদ্মা সেতু একটি অপার সম্ভাবনার নাম। অর্থনীতির নতুন সোপান। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই পদ্মা সেতু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সাহসী উদ্যোগ আর আন্তরিক প্রচেষ্টায়। আশার কথা, করোনা প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। বন্যা ও তীব্র স্রোতের মধ্যেই পদ্মা সেতুর চার ও পাঁচ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন হয়েছে ৩২তম স্প্যান। এটি বসানোর পর মূল সেতুর অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য দাঁড়াল চার হাজার ৮০০ মিটার বা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতল পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান। বহুমুখী এই সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর কাঠামো। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ জানে, ফেরি পাড়ি দিয়ে পদ্মা পার হওয়া ভয়ঙ্কর এক অস্বস্তিকর ও দীর্ঘ ভোগান্তির কাজ। এর ফলে ৭-৮ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে ১২ থেকে ১৮ ঘন্টা লেগে যায়। এটা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ আজ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেতু কেবল দেশের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও উন্নয়নের পথে মাইল ফলক হয়ে থাকবে না, আমাদের সামর্থ্যরে উচ্চ মাপকাঠি হিসেবেও শ্রম ও পদ্মার বুকে সগৌরবে মাথা উঁচু করে থাকবে। যথাসময়েই সেতুর কাজ শেষ হোক- এটি আমাদের প্রত্যাশা।