ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২০

ধর্ষণ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে, তা গত মঙ্গলবার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার। এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রি সভার ভার্চুয়াল বৈঠকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০’ সংশোধিত করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে জনমনে এক ধরনের স্বস্তি নেমে এসেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সঙ্গত কারণেই এমন পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হতে পারে তা আমলে নেওয়ার বিকল্প থাকতে পারে না। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, সারা দেশে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৯৭৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর ৪৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ধর্ষণের শিকার ১২ নারী।

 দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা ভয়ানক উদ্বেগে ফেলেছে নাগরিকদের। ক্ষুব্ধ-বিহবল মানুষ প্রতিবাদে নেমেছে রাজপথে। সব জায়গাতে বিক্ষোভকারীদের এক সুর ধর্ষণের ঘটনরা আর না ঘটুক। কয়েক বছর আগে একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছিল, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার শাস্তি হয় মাত্র ৩ ভাগের; বাকি ৯৭ ভাগ মামলার আসামিরা শাস্তির বাইরে থেকে যায়। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা মনে করেন, তাদের কিছু হবেনা। পার পেয়ে যাবেন। এই পরিস্থিতিই সাধারণ মানুষের মনে অনাস্থা তৈরি করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিত করা একমাত্র সরকারের সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি ইতিবাচক ঘটনা সামাজিক অপরাধ, অনৈতিকতা, সন্ত্রাস ও অবক্ষয়ের মতো নেতিবাচক দিকগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে। সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার যে চিত্র তাতে আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। যে কোনো মূল্যে ধর্ষণ বন্ধ হোক।