মূল্যস্ফীতি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২০

নিত্যপণ্যের বাজার যদি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে তা কতটা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রসঙ্গত বলা দরকার যে, সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে, অস্থিরতা বিরাজ করছে দ্রব্যমূল্যের বাজারে।  করোনার কারণে সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। দেশের খাদ্য পণ্য বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চাল-পেঁয়াজসহ নিত্য পণ্যের উর্ধ্বমুখী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দোদুল্যমান অবস্থান, চীন ও ভারতসহ বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস থেকে মূলত এ ঝুঁকির শংকার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। বর্তমান মুদ্রানীতি সম্প্রসারণ মুখী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে নতুন বছরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না। তবে কৃষি পণ্যের দাম বাড়বে এমন পূর্বাভাসকে নিয়ামক ধরে নেওয়া হয়েছে।

 চলতি অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয় সাড়ে পাঁচ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মূল্যস্ফীতি ধরে রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ। আমরা বলতে চাই দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা, যাতে করে মধ্যস্বত্বভোগীরা চাহিদা-জোগানের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার সুযোগ না নিতে পারে আর বাজার অস্থিরতার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করনীয় নিয়ন্ত্রণ ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রেক্ষাপটে ক্রয় ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।