রোহিঙ্গা সমস্যা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২০

রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসছে জাতিসংঘ-বিশ্ব ব্যাংকসহ বিশ্ব সম্প্রদায়। ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে তারা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মহানুভবতার প্রশংসা করেছেন। বৈঠককালে তারা রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। শুরু থেকেই এমন আশ্বাসের কথা আমরা শুনে আসলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের কার্যকরি ভূমিকার অভাব দেখতে পাওয়া যায়। তবে আশার কথা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক টিএসপার গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারি ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন। গত মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইইউভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এবং বিভিন্ন সংস্থার আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।

তারা এ সময় পুনরায় বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে জোরালো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ছয় মাসে বিশ্ব সমাজ কোভিড-১৯ সংকট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথগুলোও বন্ধ করতে ব্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করার পক্ষে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভিন্ন বন্ধু চীনের অনুরোধ বাংলাদেশের সংঘাত এড়ানোর পথই বেছে নিয়েছে। আশা করা যায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাস মিয়ানমার ও তার মুরুব্বিদের সুমতি ফেরাতে সহায়তা করবে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সুপ্রতিবেশি সুলভ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে চাই। আমরা মনে করি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভুগবে তা কাম্য হওয়া উচিত নয়।