বজ্রপাতের আঘাত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১২:১৫ পিএম, ০৮ মে ২০২০

বজ্রপাতে যেভাবে একের পর এক মৃত্যুসহ ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে, তাতে পরিস্থিতি এমন যেন এটি একটি এক ধরনের দুর্যোগ হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, গাছপালা কমে যাওয়া ও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের দেশে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। কারণ মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষকেরই প্রাণহানি ঘটে সবচেয়ে বেশি। দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হচ্ছে প্রতিদিন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। এই পরিস্থিতির মধ্যে বজ্রপাতেও ঝরছে প্রাণ। তথ্য মতে, চলতি এপ্রিল মাসের ২০ দিনে বজ্রপাতে ৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত বছরের পুরো এপ্রিল মাসে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ২১। দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ডিজাস্টার ফোরামের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিবেদনে ৪ থেকে ২৪ এপ্রিলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জানা গেছে, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং দেশের ছয়টি এলাকা থেকে সরাসরি তথ্য নিয়ে ডিজাস্টার ফোরাম বজ্রপাতের এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বলা দরকার, বিভিন্ন ধরনের কাজে বাইরে থাকায় বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছিল যে, ধানকাটার সময় ও বৃষ্টিতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা গেছেন। আমরা বলতে চাই, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। এর অংশ হিসাবে তালগাছের চারা রোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। মনে রাখা দরকার, দুর্যোগ এড়ানোর কোন সুযোগ নেই কিন্তু যথাযথ উদ্যোগ নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।