ওষুধ রপ্তানিতে সাফল্য

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ বিশ্ব মানের ওষুধ উৎপাদন করছে। ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ওষুধ রপ্তানি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত এ দেশ। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে শত বিতর্ক থাকলেও ওষুধ শিল্পের সুনাম বিশ্ব বাজারে। দেশের চাহিদা পূরণ করে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও অষ্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের ১৬০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বিশ্বের ৪৮ দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের ওষুধ। ওষুধ শিল্পের স্থানীয় বাজারের পরিমাণ ২০০ মিলিয়ন ডলার। দেশে এখন ২৫৭টি নিবন্ধিত ওষুধ কোম্পানি আছে। এর মধ্যে ১৫০টি সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ও কাঁচামাল উৎপাদিত হচ্ছে এসব কারখানায়। এ শিল্পে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশিয় ৪৬ কোম্পানির ৩০০ ধরনের ওষুধপণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়। বিশ্ব বাজারে এখন ওষুধের বার্ষিক ব্যয় ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। ইপিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের। আগের বছরের চেয়ে ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। করোনায় ওষুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামের পালেও হাওয়া লেগেছে। মে ও জুনের শেয়ার লেনদেনে ওষুধ খাত ব্যাপকভাবে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে এই ইতিবাচক দিকের মধ্যে দুঃখজনক সংবাদ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি। আমরা মনে করি, নিয়মিত বাজার তদারকির ব্যবস্থা না থাকলে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা দেশের জন্য সুখবর। যে করেই হোক এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।