রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

সন্দেহ নেই যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের আয়ের একটি বড় খাত, যা জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ফলে অগ্রগতির এ ধারা যেন কার্যকরভাবে এগিয়ে যায় তার লক্ষ্যে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য বলেই আমরা বিবেচনা করতে চাই। করোনা মহামারিকালে বিপর্যস্ত বিশ্ব। দেশে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এক্ষেত্রে বলা দরকার, সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মোট ২৬০ কোটি (২.৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে দেন প্রবাসীরা। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনই আসেনি। জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। আর গত জুন মাসের চেয়ে বেশি এসেছে ৪২ শতাংশ। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত জুন মাসে ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর গত বছরের জুলাইয়ে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এই মহামারিকালে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির এই খবর সন্দেহাতীত ভাবেই ইতিবাচক। যা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এটা মনে রাখা দরকার, প্রবাসী আয়প্রবাহ বৃদ্ধির অর্থই হলো দেশের অর্থনীতি গতিশীল থাকা।

 কেননা বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের উপার্জিত অর্থের প্রবাহ কমে এলে জাতীয় অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি প্রবাসী আয় প্রবাহ কমে এলে জাতীয় রিজার্ভের সূচকও নিম্নগামী হয়। ফলে আমরা প্রত্যাশা করি, প্রবাসী আয়প্রবাহ বৃদ্ধি ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ আমাদের জাতীয় স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পুরো বিশ্বই এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি। ফলে সব দিক বিবেচনায় নিয়েই প্রবাসী আয়ের বিষয়টি আমলে নিতে হবে একই সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর ধারা যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্যেও কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তা আমলে নিয়ে সমস্যা সমাধানে নিতে হবে সার্বিক পদক্ষেপ। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে রেমিট্যান্সের অগ্রগতির ধারা বজায় রাখা এবং দেশকে সমৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এমনটি কাম্য।