হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশী মাছের অভাব তীব্রতর হচ্ছে। কাচকি, কৈ, মাগুর, ট্যাংরা, টাকি, পুঁটি, বাইন, শোল, বাটা, কালবাউশ, বাঘা, আইড়, ঘাওড়া, পোয়া, মাগুর, সরপুটি, বোয়াল প্রভৃতি দেশি প্রজাতির মাছ মানুষের দেহের পুষ্টি যোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক সময় বাজারে মাছের সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। মানুষ বাজার থেকে নিয়মিত দেশি ‘মাছ কিনতেন। কথায় আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়ে জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অপর দিকে উন্নয়ন ও নতুন আবাসনের সুবিধার জন্য দেশের বিপুল সংখ্যক খাল-বিল-পুকুর, ডোবা ভরাট করা হয়েছে। ফলে মৎস্য প্রিয় সাধারণ বাঙালি পরিবারে মাছের অভাব দেখা দেয়। তাই ক্রেতার চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশি মাছ বাজারে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, কৃষি জমিতে যথেচ্ছ সার, কীটনাশক ব্যবহার, শিল্পায়ন ও মানুষের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য পানি দূষণ, জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার মুখে অতিরিক্ত মৎস্য  আহরণ, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা-নানাবিধ কারণে দেশি মাছের উৎপাদনে নেমে এসেছে মহাবিপর্যয়। মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার যতœশীল হওয়া সত্ত্বেও দেশি মাছের ক্ষেত্রে সাফল্য নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। ক্রেতার চাহিদা মেটাতে আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশি মাছ বাজারে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা জরুরি। দেশের নদী, খাল-বিলের পানিকে দূষণ মুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে অধিক পরিমাণে পরিবেশবান্ধব জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে মজা ডোবা, খাল, বিল পুনর্খনন করে দেশি মাছের অবাধ বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অধিক উৎপাদনশীল মাছের জাত উদ্ভাবনে আপত্তি নেই। তবে দেশের সম্পদ তো রক্ষা করতে হবে।