সাগর-রুনি হত্যার আট বছর

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন মেলেনি গত মঙ্গলবারও। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও নতুন তারিখ ধার্য করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রো পলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ অক্টোবর। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৭৪ বার পেছাল। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা মামলাটি তদন্ত করে। কিন্তু তারা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল র‌্যাব তদন্তভার নেয়। কিন্তু গত আট বছরেও র‌্যাব তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এমনকি এই হত্যাকান্ডের কোনো রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি। হত্যাকান্ডের পর প্রশ্ন উঠেছিল, সুরক্ষিত ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে খুনিরা কিভাবে হত্যাকান্ড সংঘটিত করতে পারল।

 ধারণা করা হয়েছিল, খুনিদের অতি পরিচিত অথবা স্বজনদের কেউ ঘটিয়েছে এ হত্যাকান্ড। সবাই আশা করেছিল, সাগর-রুনি যেহেতু সাধারণ কেউ নন, তারা মিডিয়া কর্মি, অন্তত সে কারণে হলেও তাদের হত্যাকান্ডের রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে এবং খুনিরা প্রাপ্য শাস্তি পাবে। কিন্তু গত আট বছরেও হত্যা রহস্যের কুলকিনারা না হওয়ায় এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত অদক্ষতাই এর জন্য দায়ী, নাকি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই আড়াল করা হচ্ছে প্রকৃত খুনিদের? সাধারণ মানুষ এটা বিশ্বাস করতে চাইছে না, আমাদের পুলিশ কিম্বা র‌্যাব এতটা অদক্ষ যে, একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য তারা আট বছরেও উদঘাটিত করতে পারবে না।

 অনেকেই মনে করছেন, পেশাগত কারণে সাগর-রুনির দেশি-বিদেশি শত্রু সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আর তারাই হয়তো হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তারা সামাজিকভাবে এতই শক্তিশালী যে, থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। হত্যাকান্ডের আট বছর পুর্তিতে আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের প্রতি আবেদন জানাই, আর বিলম্ব না করে দ্রুত দেশবাসীর সামনে উদঘাটন করুন সাগর-রুনির হত্যারহস্য। আইনের আওতায় নিয়ে আসুন প্রকৃত খুনিদের।