দুর্যোগে কৃষক অসহায়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২০

করোনা মহামারির মধ্যেই একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের জীবন ও জীবিকাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। করোনার মধ্যে ফসল ভাল হলেও পণ্যের দাম পাননি কৃষক। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই লড়াই শেষ না হতেই ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের অন্তত ২০টি জেলায় কৃষকের আম, লিচু, কলা, পানসহ ফসলের ওপর তান্ডবলীলা চালায়। পাশাপাশি দফায় দফায় কালবৈশাখীর আঘাত তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব বিপদের মধ্যেই বন্যায় কৃষকের ফসল তলিয়ে দিয়েছে। দেশের প্রায় ২৬টি জেলায় কৃষকের ধান, পাট, ভুট্টা, শাকসবজি ও গ্রীষ্মকালীন তরিতরকারিসহ বিভিন্ন ফসল এখন পানির নিচে। এ অবস্থায় কৃষকের কষ্টের সীমা নেই। তাদের বেঁচে থাকাই এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ খবরে দেশের কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোরো ধানের দাম একটু ভাল ছিল, তবে করোনার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাটে গিয়ে ধান বিক্রি করতে না পারা এবং সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে কৃষকের যে ক্ষতি হয় তার রেশ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সরকার বা উন্নয়ন সংস্থা কেউই এখন পর্যন্ত কৃষককে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। এ পরিস্থিতির মধ্যে আবারও বন্যার গ্রাসে পড়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তার বড় অংশই চলে যাচ্ছে নেতাদের হাতে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে দফায় দফায় দুর্যোগ। এ অবস্থায় কৃষকরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারের বিশেষ সহায়তা না পেলে কৃষকের পক্ষে আমন উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হবে। এর প্রভাব পড়বে পরবর্তী বোরো চাষে। তারা বোরোর চাষ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ধান উৎপাদন কমে যেতে পারে। বন্যাকবলিত কৃষিঋণ, এসএমই ঋণ, এমএফআই ঋণের যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যাংকগুলোকে জোর তাগাদা দিতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মিরা কৃষি পুনর্বাসনে বন্যাকবলিত কৃষকের জন্য ধানের বীজতলা প্রস্তুত রাখতে হবে। বন্যার পর কৃষক যেন ধানের চারা সংগ্রহ করতে পারেন সেদিকেও নজর দিতে হবে।