খাদ্যে ভেজাল চক্র তৎপর

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ৩০ এপ্রিল ২০২০

নকল ও ভেজালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মানবদেহে বাসা বাঁধছে যত অনিরাময়যোগ্য রোগ। এ রোগ থেকে নিরাময়ের আর যেন কোনো রাস্তা খোলা নেই। এসব জটিল ও অনিরাময়যোগ্য কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই অকালে মারা যাচ্ছে। এই জটিল রোগ কিংবা অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী কিছুটা মানুষই। এ দেশের একশ্রেণির মানুষের অতি মুনাফা এবং লোভের কারণেই দিনে দিনে আমাদেরও মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। এদের মধ্যে কোনো মানবিক বোধ নেই। সরকারের নানামুখী কর্মকান্ডে দেশ খাদ্য উৎপাদনে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে এখনও সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। দেশে খাদ্য ব্যবসায় জড়িত কিছু অতি মুনাফা খোর এবং ভেজালকারী চক্রের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য ও খাদ্য পণ্যের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের এক চেটিয়া আধিপত্য চলছে। তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসনের ঘাটতিও ক্রমেই বাড়ছে। নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের এখনও পুরোপুরি সচেতন নয়। করোনা ভাইরাসের করাল থাবায় আক্রান্ত বিশ্ব। বাংলাদেশেও বাড়ছে সংক্রমণ। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সবশ্রেণির মানুষের কাছে করোনাকালে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া যেমন জরুরি, সে সময় এক শ্রেণির ভেজালকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চলছে রমজান মাস। পবিত্র এ মাসেও ভেজাল চক্রের লোভাতুর জিহবা কোনো নীতি-নৈতিকতার ধারে কাছে নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অনেকেই আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন- আগামী ২০ বছরের মধ্যে মানুষের মৃত্যুর ৭০ শতাংশ কারণ হবে ভেজালযুক্ত খাদ্যগ্রহণ। এই ধরনের আশংকা নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, কেবল রমজান মাসেই নয়, সারা বছর এই অসাধু ভেজাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো জরুরি। কেবল জরিমানা বা জেল নয় এর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদন্ড। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এর পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে।