সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি সবচেয়ে এবং বেশিদিন ধরে আলোচিত ঘটনার একটি। জনস্বার্থে বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বটে। কয়েক বছর ধরে আমাদের সড়ক-মহাসড়কে যে হারে দুর্ঘটনা ঘটছে, জীবন ও সম্পদহানি ঘটছে তা নি:সন্দেহে আতঙ্কের। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৪৪৫ জন। আহত ৮৩৪ জন। নিহতের মধ্যে শিশু ৩৯ জন এবং নারী ৮১ জন। এককভাবে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ৮৯টি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৩ জন, যা মোট নিহতের ২৩.১৪ শতাংশ। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার হার ২৬.১৭ শতাংশ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন  গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দুনিয়ার যেসব দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ তার মধ্যে এগিয়ে। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোর চেয়ে এদেশে সড়ক দুর্ঘটনা গড়ে ২৮ গুণ। প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এ দেশে প্রাণ হারান সড়ক দুর্ঘটনায়। আহত হন অন্তত ৫০ হাজার। যার একাংশকে সারাজীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপে ভুগতে হয়। সড়ক নৈরাজ্যের অবসানে নতুন আইন করা হলেও তা কতটা কাজে আসবে এ নিয়ে ইতিমধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পরিবহণ চালক, যাত্রী, পথচারী সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের প্রতি সব পক্ষকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কঠিন কাজটি করতে হবে ট্রাফিক পুলিশকে। আগের চেয়ে অনেক গুণ বেশি জরিমানা ও শাস্তির বিধান রেখে প্রবর্তিত নতুন সড়ক পরিবহণ আইনটি বাস্তবায়ন করা গেলে রাজপথের নৈরাজ্যের অবসান ঘটবে, চলাচলে ফিরবে স্বাচ্ছন্দ। মানুষের ভোগান্তি এবং সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও কমে আসবে। দেশের সবচেয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হিসেবে দুর্ঘটনা কমাতে সরকার সংশ্লিষ্টরা দায়বদ্ধ ভূমিকা পালন করবেন আমরা এমনটিই দেখতে চাই।