ভালো ফলনে খুশি চিনা বাদামচাষিরা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ২৭ জুন ২০২০

মানব দেহের জন্য ব্যাপক উপকারী চিনা বাদামের বাম্পার ফলন নি:সন্দেহে কৃষি জগতে ইতিবাচক দিক। তাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দিনাজপুরের খানসামায় চলতি বছর খরিপ মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজার দরে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় বাদাম প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে নিতে হাঁপিয়ে উঠেছে চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ৩ হেক্টর জমিতে দেশি ও হাইব্রীড জাতের চিনা বাদাম চাষ হয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বাদামের ফলন হয়েছে ভালো। আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের সুবর্ণখুলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গাছের গোড়ায় শেকড়সহ আধা শুকনা বাদাম ডালি আর বস্তা ভরে ঘরে তুলছেন কয়েক জন চাষী। আবার কেউ বাদামসহ গাছ তুলে জমিতে শুকাতে দিচ্ছেন। কোনো কোন চাষীরা গত এক যুগ আগে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বীজ এনে প্রথম পরীক্ষামূলক চাষ করেন। সে বছর নিজ জমিতে চিনা বাদামের ফলন ও লোকমুখে নতুন ফসলের প্রশংসা শুনে বাণিজ্যিকভাবে বাদাম চাষ শুরু করেন। এরপর এলাকার অনেকেই চিনা বাদাম চাষে যুক্ত হয় বলে জানা যায়। এবার ২৫ শতক জমিতে চিনা বাদাম চাষ হয়েছে। বীজ ক্রয়, হালচাষ, বপন, সার, নিড়ানী, সেচ ও উত্তোলন খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে ৬ মণ। বর্তমান বাজার মূল্যে কাঁচা অবস্থায় ৫০ টাকা কেজি দরে ১২ হাজার টাকা এবং শুকনা হলে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট  কৃষি অফিসার জানান, উঁচু জমিতে চিনা বাদাম সারা বছর চাষ করা যায়। বেলে-দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়। খানসামায় এ ধরনের অনেক জমি আছে। চিনা বাদাম মানব শরীরের জন্য ব্যাপক উপকারী এবং অর্থকরি ফসল। এ বছর আবহাওয়া ভালো ছিলো। যারা চাষ করেছেন তাদের ফলন ভালো হয়েছে। খরিপ মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে আরও বাদামের উৎপাদন করলে সব প্রান্তিক চাষীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।