বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ১১:২১ রাত
আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ১১:২১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

আবার বেড়েছে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম। পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রতি কিলোওয়াট ৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা নতুন দর ঘোষণা করল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অর্থাৎ প্রতি কিলোওয়াটে ১ টাকা ৩ পয়সা করে বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে ১৯.২২ শতাংশ বেড়েছে। আগামী বিল মাস ডিসেম্বর থেকেই নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষ যখন দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে দাম বাড়ানো হলো বিদ্যুতের। গত সোমবার পাইকারি দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি। অর্থনীতিবিদরা আশংকা করছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে পণ্য মূল্য আরও বেড়ে যাবে এবং জনগণের জীবনে দুর্গতি নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো বলে পত্র-পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।

৩৮ দিন আগে এ ধরনের প্রস্তাব নাকচ করেছিল বিইআরসি। সে সময় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সরকারের উপরিমহল আগ্রহ না দেখানোয় দাম বাড়েনি। এখন আইএমএফ’র চাপ রয়েছে। তাই দাম বাড়ানো হলো। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির খবরে সবাই, বিশেষত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। কারণ, বিদ্যুতের দাম বাড়লে খরচ বাড়বে কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে। ফলে আরেক দফা বাড়বে দ্রব্যমূল্য। ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানি খাত। করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে মানুষ, বিশেষ করে দেশের শিল্প খাত।

এ অবস্থায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহক বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে মহাসংকটে পড়বে এ খাত। সাধারণ মানুষের জীবন হবে আরও সংকটাপন্ন। তাই পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হলেও এ মুহূর্তে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা উচিত বলে মনে করি আমরা। দেশে সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যা ওই বছরের মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।

বিদ্যুৎ খাতের বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) কাছ থেকে সরকার যে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিচ্ছে তা নিশ্চিত করতে এসব সংস্থার পরামর্শ মতো ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য গ্রাহক পর্যায়ে এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতেই বিদ্যুৎ-জ্বালানির দামে সমন্বয় করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়বে কিনা, সেটা নির্ভর করছে মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ওপর। যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম বলেছেন, ‘মূল্য বৃদ্ধি না করে লুন্ঠনমূলক ব্যয় ও অদক্ষতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো যেত। মূল্য বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। দাম বাড়ানোর কারণে পিডিবি এবার মুনাফা করবে, যা বিইআরসি আইনের পরিপন্থী। এখন শীতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমায় লোড শেডিং বন্ধ হওয়ার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটা ভোক্তার সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও আইনি কাঠামো মেনে দাম বাড়ানো হয়েছে বলেই জানিয়েছে বিইআরসি। একদিকে করোনার ক্ষত ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অন্যদিকে নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি ইত্যাদিতে নাকাল হয়ে আছে মানুষের জীবন। এ সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কোনো ক্রমেই বাড়ানো উচিত হবে না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়