বাজেট ২০২২-২৩: মধ্যবিত্তের স্বস্তিও ফেরাতে হবে

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২২, ০৭:৩০ বিকাল
আপডেট: জুন ১১, ২০২২, ০৭:৩০ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন, স্বভাবতই তাতে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি আয় প্রাক্কলনের ফলে ঘাটতিই থেকে যাচ্ছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।


এ বড় অঙ্কের ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। অবশ্য বাজেটে আয় বাড়ানো ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঝুঁকিমুক্ত রাখার দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। এজন্য করমুক্ত আয়সীমা না বাড়িয়ে আয়কর থেকে আরও বেশি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এ ব্যাপারে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা।

বস্তুত প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য খুব বেশি সুখবর নেই। ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি। কমানো হয়েছে রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের সীমা। দুর্দিনের ভরসায় ও আয়কর কিছু ছাড় পেতে মধ্যবিত্ত সঞ্চয় করে থাকে। এক্ষেত্রে মোট আয়ের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ কর রেয়াতযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হতো, এবার তা করা হয়েছে ২০ শতাংশ। এতে করযোগ্য আয়ের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ আরোপ করায় বাড়বে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ। এসব ছাড়াও বাজেটে ভ্যাট ও শুল্ক-কর খাতে এমন অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়বে।

তবে সুখবর রয়েছে নিুবিত্তের জন্য। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন অর্থবছরে খাদ্যনিরাপত্তা, সামাজিক কল্যাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসৃজন, অবসর ও পারিবারিক ভাতা এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত হলেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অতিদরিদ্রদের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে যে চাল বিক্রি করা হতো, তা করা হয়েছে ১৫ টাকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিুআয়ের মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে, সন্দেহ নেই। মধ্যবিত্তের জন্যও স্বস্তিদায়ক প্রণোদনা কাম্য।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সুবিধা। কোম্পানির করপোরেট কর হ্রাস, এক ব্যক্তির কোম্পানিতে কর ছাড়, স্টার্টআপ কোম্পানির কর হ্রাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে ছাড়। তবে এনবিআরবহির্ভূত কর আদায় বৃদ্ধিতে স্ট্যাম্প ডিউটি বাড়ানোর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে খরচ বাড়বে। এ খরচ আরও বাড়বে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে, যার ইঙ্গিত রয়েছে বাজেটে।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত বাজেটে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এজন্য যে সক্ষমতা প্রয়োজন, সেটাও অর্জন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। দেশে বাজেট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। এটি কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বাজেটের যথার্থ বাস্তবায়নে বরাদ্দের অর্থ সঠিক সময়ে খাতগুলোতে পৌঁছাতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহারে প্রতিটি খাতে বাড়াতে হবে দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। রোধ করতে হবে অপচয়।

সংসদে বাজেট নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সংসদের বাইরে বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত দেবেন। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আমরা আশা করব, কর প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসবে- যৌক্তিকতা বিচার করে বাজেটে সে অনুযায়ী সংশোধন আনতে দ্বিধা করবে না সরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়