জিডিপি’র উচ্চ প্রবৃদ্ধি

RezaDhaka RezaDhaka
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২১

স্বাভাবিক নিয়মে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির মানে হচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। এতে একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের আয় বাড়ে অন্যদিকে দারিদ্র্যের হার কমে। কিন্তু কাঙ্খিত হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরও কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব না পড়লে সেটা কাজের কাজ হলো না। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ক্রমান্বয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ। এ বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ, ২০২২ সালে তা আরো বেড়ে হবে ৬.৫ শতাংশ। এ ছাড়া মাথা পিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে আবারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলার। আর ভারতের মাথা পিছু জিডিপি দাঁড়াবে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার। ফলে এই নিয়ে পর পর দুই বছর ভারতকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ। আইএমএফ মঙ্গলবার রাতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডবিøউইও) প্রকাশ করেছে। আইএমএফ বলছে, এ বছর করোনার মহামারি কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে। এর মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আগের বছর ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সে জন্য আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়, মাথা পিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কারণ গত বছর ভারতের অর্থনীতি বেশি মাত্রায় সংকুচিত হয়েছিল। আইএমএফ’র হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৫ শতাংশ। এর বিপরীতে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ৭.৩ শতাংশ। ফলে তাদের হিসেবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হয় এক হাজার ৯৬১.৬১৪ ডলার এবং ভারতের এক হাজার ৯২৯.৬৭৭ ডলার। গত বছর প্রথম ভারতের চেয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। আইএমএফ বলছে, বড় অর্থনীতিগুলো আগামী বছর নাগাদ মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০২৪ সালেও সেই পর্যায়ে যেতে পারবে না।

এর প্রধান কারণ টিকা প্রদানে পিছিয়ে থাকা। আইএমএফ’র প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আই্এমএফ’র দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এক প্রলম্বিত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। মহামারি দীর্ঘ হওয়ার কারণেই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ অনিশ্চয়তার জের আগামী বছরেও কিছুটা থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে তা কমে আসবে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রæততর হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি। অথচ ২০০৭ সালেও বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ভারতের অর্ধেক। শুধু জিডিপিতে নয়, আর্থ-সামাজিক আরো অনেক সূচকেই আজ বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলছে। আমাদের রপ্তানি আয় বেড়েছে। সেবা খাত প্রসারিত হয়েছে। কিছুটা হলেও বেড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ। মেগা প্রকল্পগুলো দ্রæত শেষ হলে আমাদের অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। মেগা প্রকল্পে বড় অংকের বরাদ্দ দিলে তার প্রভাব কী বাড়তে পারে আমাদের অর্থনীতিতে, সে বিষয়ে ভেবে দেখতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশের একটি বড় সংখ্যা বেকার। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কম। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে জিডিপিতে তার প্রভাব পড়ত। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগে আগের মতো জোয়ার নেই। যদিও দেড় বছরের বেশি দেশে চলেছে করোনাকালীন লকডাউন। সে সময় পুরো অর্থনীতিই ছিল বন্ধ। বিনিয়োগের তো প্রশ্নই আসে না। এখন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আবার শুরু করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা ভালো অবস্থায় রয়েছে কিছুদিন আগে এই বিষয়টি বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরও জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া আলোচনায় এসেছিল যে, ভালো অবস্থা ধরে রাখতে হলে শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতকেও শক্তিশালী করতে হবে। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, এই বিষয়গুলো সামনে রেখেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগও তেমন চোখে পড়ে না। ফলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে ব্যক্তি খাতেও বিনিয়োগ আসছে না। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এক ধরনের খরা চলছে। এসব দিক বিবেচনা করে নতুন বিনিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলে অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।