টিকার অনিশ্চয়তা কেটে যাচ্ছে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২১

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। টিকা সংগ্রহে যত টাকাই লাগুক, সরকার তা দেবে। টিকা নিয়ে সমস্যা হবে না। জুলাই মাস থেকে আরও টিকা আসবে এ আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন। করোনা মহামারি নিয়ে শংকার শেষ নেই। বিশ্বের দেশে দেশে আবার ফিরে আসছে করোনা সেই মহামারি আকারে। আবার লকডাউনে বহু দেশের বহু এলাকা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। এ লকডাউনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে বলে এ বিষয়ে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এরই মধ্যে মডার্নার টিকা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। যদিও দেশে কোনো এক সংরক্ষণাগারে মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ টিকা এক সঙ্গে মাইনাস ১৫ থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণের সক্ষমতা নেই।

 তবে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে এক মাসের মধ্যে মডার্নার টিকা দিয়ে শেষ করে ফেলা গেলে ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইপিআইয়ের সংরক্ষণাগারেই তা রাখা যাবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শামসুল হক। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই টিকা কার্যক্রম চলবে। তিনি জানান, দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এই টিকা দেওয়া হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও এই টিকা পাবেন। বিদেশগামী শ্রমিকরা সিনোফার্মের টিকা দিয়েও বিদেশ যেতে পারবেন। চীনও আমেরিকা থেকে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা আসছে। এর মধ্যে চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা দেড় কোটি ডোজের প্রথম লটের ২০ লাখ ডোজ টিকা যে কোনো সময় ঢাকায় পৌঁছবে। 

 পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ, বৃহস্পতিবারই এই টিকার চালান ঢাকা বিমান বন্দরে পৌঁছতে পারে। গত বুধবার সকালে বেইজিংয়ের টিকার সেন্ট্রাল স্টোর থেকে ওই টিকা বিমান বন্দরে পাঠানো হয়েছে বলে নিজের ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ টিকা গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার দেশে আসার প্রস্তুতি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গত বুধবার সংসদে জানান, চলতি বছরের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেশে এসে যাবে, যা দেশের পাঁচ কোটি মানুষকে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী বছর জনসনএর অ্যান্ড জনসন প্রায় সাত কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে বলেও মন্ত্রী জানান। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, দেশে ২৬ কোটি ডোজ টিকা কেনার টাকা অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, টিকা সবাইকে নিতে হবে একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। না হলে এ দুর্দিন অতিক্রম করার উপায় নেই। তাই সবাই মিলে করোনার বিরুদ্ধে এক সঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।