শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা

RezaDhaka RezaDhaka
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২১

করোনা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। দেশেও করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু থেমে নেই। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। তবু এটা ঠিক যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ করোনা প্রতিরোধে সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। কেননা, যে কোন সময় করোনা বেড়ে যেতে পারে এমন আশংকা এড়ানো যায় না। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতার সাথে খুলে দেওয়া হয়েছে। টানা দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকরূপে ফেরা এখনো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়ার পরও প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এখন শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আর তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের অনিশ্চিত পরিস্থিতির পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের সংকট। আশার কথা হলো, এ মাসের মাঝামাঝিতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদানের কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। শিশুদের পরীক্ষামূলক এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে এখন ৬০ লাখ টিকা আছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের ১ কোটি টিকা দেওয়া যাবে। এদিকে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেড়বছর পর স্কুল-কলেজ খুললেও শিক্ষার্থীদের অন্তত টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চান উপাচার্যরা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন নিতে জোর তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এতেই যেন দায়িত্ব শেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকের কাছাকাছি সংখ্যক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন, যদিও তাদের তিন ভাগের দুই ভাগেরও বেশি এখনো টিকা পায়নি। নিবন্ধন করার পর এসএমএস না আসা এবং টিকাদানে ধীরগতির কারণে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত বিশেষ কোন কার্যক্রমও নেওয়া হয়নি, যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে টিকাদান শুরু হওয়ার পর দুটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও এখন পর্যন্ত দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় খোলা সম্ভব হয়নি। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও গ্রন্থাগার খোলা হয়েছে শর্তসাপেক্ষে। করোনার প্রথম ঢেউ স্তিমিত হয়ে আসায় গত মার্চে সিদ্ধান্ত হয় যে মে মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় তখন আর খোলা যায়নি। এরপর ১৫ অক্টোবরের পর আবার খোলার ব্যাপারে আলোচনা হয়। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয় গত ১২ সেপ্টেম্বর। তখন একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বাধা নেই বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে উদ্যোগ আর এগোয়নি। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শেষে প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা বলেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সায় দিয়েছিল উপাচার্যরা। গত সোমবার পর্যন্ত টিকার নিবন্ধন করেছেন সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন সাড়ে পাঁচ লাখ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন সোয়া এক লাখ জন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই এমন প্রায় এক লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থী ইউজিসির ওয়েবলিংকের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু তাদের কিভাবে বা কবে থেকে টিকা দেওয়া হবে সে ব্যাপারে কোন তথ্য জানাতে পারেননি কেউ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ টিকা কার্যক্রমের পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৭৫ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে ২৫ বছরের কম বয়সীরা অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। তারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের এসএমএস না আসায় টিকা নিতে পারছেন না। যদি বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়, তাহলে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সহজেই খোলা সম্ভব হতো। সেশনজট কিছুটা হলেও কমতো। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।