শ্রমিক অসন্তোষ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ২২ মে ২০২০

করোনার ভয়াল থাবায় প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য জেলার সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন ঢাকা। কিন্তু অঘোষিত লকডাউনের মধ্যেই সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতায় না মেনেই সড়কে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। তারা বেতনের দাবিতে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। গার্মেন্টসহ অন্যান্য শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-বোনাস ঈদের আগে পরিশোধের জন্য কারখানার মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে গরিব অসহায়দের মাঝে ঈদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান চালু আছে সেগুলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সমূহ পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। এদিকে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ করেছেন। দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। অধিকাংশ শ্রমিককেই মার্চ মাসের বেতন দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া এপ্রিল মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে। এই অবস্থায় তাদের না জানিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছাঁটাইয়ের গুজব ও বেতনের দাবিতে গাজীপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এখানেই শেষ নয় রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবহণ শ্রমিকরা খাদ্য সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেছেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা কোনো আর্থিক কিংবা খাদ্য সহায়তা পাননি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে, পাশাপাশি মালিকরাও তাদের শ্রমে-ঘামে বিত্ত-বৈভবে রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। তাদের বেতন পরিশোধ করা সহ শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও।