বিদেশে অর্থ পাচার

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ১১ জুন ২০২১

অর্থ পাচারের ঘটনা একটি বড় অপরাধ। এ জন্য শাস্তির বিধান আছে, অর্থ পাচার বন্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। তদুপরি বারবার অর্থ পাচারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ফলে অর্থ পাচারের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়। বিদেশে অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতির অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার ইস্যু জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিদেশে টাকা পাচার বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে গত রোববার জাতীয় সংসদে দাবি তুলেছিলেন সরকারি দলেরই এক সংসদ সদস্য। আর গত সোমবার বিরোধী দলের সদস্যরা বলেছেন, দেশ থেকে টাকা পাচার ঠেকানোর কোনো পথ সরকার বের করছে না। কেউ টাকা পাচার করছেন পাচার ইনভয়েসিং (দাম কম দেখিয়ে পণ্য রপ্তানি) এবং ওভারইনভয়েসিংয়ের (আমদানিতে বেশি দাম দেখিয়ে) নামে। আবার কেউ পাচার করছেন অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে। শেয়ার বাজার সহ আর্থিক খাতের নানা অভিযোগ তোলেন তারা। এসব অভিযোগের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বিরোধী দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কারা টাকা পাচার করছে, সে তালিকা আমার কাছে নেই।

 আপনাদের কাছে থাকলে নামগুলো দেন। তিনি দাবি করেন, টাকা পাচার আগের চেয়ে কমে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি তিনি করবেন না। তিনি জানান, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন ১৫টি আইন প্রণয়ন হবে। এসব আইন অর্থ পাচার বন্ধে সহায়তা করবে। জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন,’ টাকা সব বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, কানাডায় বাড়ি করেছেন এমন কয়েকজন বাংলাদেশির কথা তিনি জানতে পেরেছেন। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাই বেশি। এ ছাড়া রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মতামত গণমাধ্যমে এলে হাইকোর্ট একই বছরের ২২ নভেম্বর অর্থ পাচারকারীদের নাম ঠিকানা এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চেয়ে দুদককে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে দু’দকের দেওয়া প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট।

 সংসদে আগের দিন রোববার সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, বড় বড় চোরদের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো কার্যক্রমে ঘৃণায়, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। এগুলোর বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছেন। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই  দেশে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা এবং সম্পূরক বাজেট পাশের প্রক্রিয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা মূলত কথা বলেছেন বিদেশে টাকা পাচার এবং পুঁজিবাজার, আর্থিক ও স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক খাতে উন্নতি করলেও সুশাসন ও সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। যার কারণে অর্থ পাচার বড় সমস্যা হয়ে আছে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, অর্থ পাচারকারীরা যাতে কোনোভাবে পার না পায়, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সেটি নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা। তা না হলে নানা প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনা বাড়তে থাকবে এমন আশংকা আছে- যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।