বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রক্রিয়া

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল। খুলে দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি কতটুকু তা নিয়ে এ মাসের মাঝামাঝি শিক্ষামন্ত্র’ী ডা. দীপু মনি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এর আগে করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গেল ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে স্কুল-কলেজ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া ছাড়া খুলতে নারাজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হলেও তা ধীরগতিতেই এগোচ্ছে। মূলত হল খুলে দিতেই সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে চান তারা। কিন্তু জাতীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা নেই বললেই চলে। এরপরও সেগুলো কেন খোলা হচ্ছে না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্র জানায়, দেশের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪১ লাখ। এর মধ্যে ৫১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। আর ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় চার লাখ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজার ২৫৮টি কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ লাখ। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ লাখ। আর আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন আরো প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। ইউজি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার ৪১ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থী করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখের মতো শিক্ষার্থী। যাদের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামীতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে শংকা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় যত দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায় ততই শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। অন্য দেশেও সেভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র তিন লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পিছিয়ে পড়ছে উচ্চ শিক্ষার অন্যান্য ৩৮ লাখ শিক্ষার্থী। সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যাল-য়গুলোকে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিতে বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা ও প্রস্তুতি জানতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন শিক্ষা মন্ত্রী। ওই বৈঠকে শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতিকে রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও তাদের উপাচার্যদের সঙ্গে একবারও বসেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রস্তুতি বা সমস্যার কথা জানাতে পারেননি উপাচার্যরা।

অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সিদ্ধান্তে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাদের জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বরের ভিত্তিতে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ‘এনআইডি’ না থাকা শিক্ষার্থীদের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বরের ভিত্তিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ইউজিসির কাছে দিতে হবে। ইউজিসি তা স্বাস্থ্য বিভাগকে দেবে। স্বাস্থ্য বিভাগ টিকার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।  জন্ম সনদের নম্বরভিত্তিক নতুন একটি ‘অ্যাপ’ তৈরির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকায় শিক্ষার্থীরা যেমন আর্থিক কষ্টে আছে, তেমনি তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ঘরে থাকার দরুণ তাদের মানসিকতার ওপর প্রভাব পড়ছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাও ভুলে যাওয়া যাবে না, দেশের উচ্চ শিক্ষার মান তলানিতে পৌঁছেছে- এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন সময়ে। মানহীনতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের অভাব, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত শিক্ষা দিতে না পারা ও শিক্ষায় কম বিনিয়োগ ইত্যাদির কারণ হিসেবেও আলোচিত হয়েছে। এগুলোও আমলে নিতে হবে। উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক এমনটি কাম্য।