ভিটামিন এ কার্যক্রম

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৪০ এএম, ০৬ জুন ২০২১

করোনা দুর্যোগের মাঝেই সকল প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে বগুড়ায় মোট ২ হাজার ৭শ ৮০টি কেন্দ্রে মোট প্রায় ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ থেকে, যা চলবে টানা ১৪ দিন অর্থাৎ আগামী ১৯ জুন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। উল্লেখ্য, আজ থেকে সারা দেশে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন চলবে বগুড়ায় পক্ষকালব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে বগুড়া জেলার ২ হাজার ৭৮৬টি কেন্দ্রে এই ক্যাম্পেইন চলবে। ৬-১১ মাস বয়সী ৫৭ হাজার ৪৩৪ জন শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (১,০০,০০০ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭০ জন শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ (২,০০,০০০ আইইউ) ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা মনে করি এই ইতিবাচক কার্যক্রম যেন সফল হয় সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বলার অপেক্ষা রাখে না শিশুর সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। ফলে শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুপুষ্টি। কেননা, এটি চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ফলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের খাওয়ানো হলে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ ছাড়া এই বিষয়টিও উল্লেখ করা দরকার যে, ভিটামিন এ-র অভাবে রাতকানাসহ চোখের অন্য রোগ শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, রক্তশূন্যতা, এমনকি শিশুর মৃত্যু হতে পারে। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিকল্প থাকতে পারে না।

 ভিটামিন ‘এ’র অভাবে শিশুদের রাতকানা রোগ ও অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। এসবের জন্য প্রধানত দায়ী দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও খাদ্য সম্পর্কে অসচেতনতা। কিছুদিন আগেও বলা হতো বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪০ হাজার শিশু প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের শিকার হয়। সে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে বছরে দুবার বিনামূল্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণের ফলে। বগুড়ার মোট ২ হাজার ৭শ ৮৬টি কেন্দ্রে মোট ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯০৪২১ শিশুকে ভিটামিন এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৫ জুন থেকে। জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক যাতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। তাই করোনার মাঝেও জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে বগুড়ায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি প্রায় ৫৭ হাজার ৪শ ৩৪ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪ শ ৭০ জন শিশুকে একটি করে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিশুদের  সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। আর  এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে যে কোনো কার্যক্রমই তাৎপর্যপূর্ণ। মনে রাখতে আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সঙ্গত কারণেই শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।