চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৫২ এএম, ০২ জুন ২০২১

গণপরিবহনে দিন দিন বাড়ছে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা, বাড়ছে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ। এর ফলে দেশের সচেতন মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। হেন কোন অপরাধ নেই, যা সমাজে সংঘটিত হচ্ছে না। সমাজে নারীদের নিরাপত্তা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সাভারের আশুলিয়ায় গত শুক্রবার মধ্যরাতে চলন্ত মিনিবাসে এক নারী যাত্রীকে (২২) দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ছয় ধর্ষককে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বাসটির চালক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি পাঁচজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর আগে এই আশুলিয়াতেই চলন্ত বাসের মধ্যে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। কিশোরগঞ্জেও চলন্ত বাসের মধ্যে ঢাকার একটি হাসপাতালের নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসের মধ্যে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ আশুলিয়ায় ধর্ষণের শিকার ঐ নারীর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট। তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় থেকে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতারকৃতরা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ বলছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক মানিকগঞ্জে তার বোনের বাসায় বেড়িয়ে রূপগঞ্জে যাওয়ার জন্য বাসে শুক্রবার রাতে নবীনগর আসেন। নবীনগরে তার পূর্বপরিচিত ভাইয়ের সঙ্গে টঙ্গী যাওয়ার জন্য একটি মিনিবাসে ওঠেন। বাসের চালক টঙ্গী না গিয়ে অন্যযাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি চালিয়ে নবীনগরের ডিসি নার্সারির সামনে চলে আসেন। এ সময় সঙ্গের যুবকটিকে গাড়িতে হাত-পা বেঁধে রেখে চালকসহ ছয়জন ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। তার চিৎকারে মহাসড়কে টহলরত সাভার হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি জব্দ, ছয় অভিযুক্তকে আটক ও ওই নারীকে উদ্ধার করে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০১৯ সালে গণপরিবহনে ৫২ ঘটনায় ৫৯ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেশের সড়ক, রেল এবং নৌপথে এসব ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ১৬টি ধর্ষণ, ১২টি গণধর্ষণ, ৯টি ধর্ষণের চেষ্টা, ১৫টি যৌনহয়রানির ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন জাগে, সমাজ ঠিক না হলে সমাজের মানুষ ঠিক না হলে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় কি করে? স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, মা-বাবা নিজ সন্তানকে ভাই ভাইকে অবলীলায় হত্যা করছে। প্রেমের কারণে অর্থ সম্পত্তির লোভে সমাজে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর আগেও চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গণধর্ষণের পর নারীকে হত্যাও করা হয়েছে।

 রাস্তায় বখাটেরাই যে কেবল যৌন নির্যাতন করে তা নয়, এই অসুস্থ ও বিপজ্জনক প্রবণতা সংক্রামক ব্যাধির মতো এখন উচ্চশিক্ষিত পুরুষদের মধ্যেও ছড়িয়ে গেছে। আমরা চাই, পরিকল্পিত ও বিন্যস্ত সমাজ। নীতিবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ সমাজ গঠনের প্রধান শক্তি-যা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কোনভাবেই আমাদের সমাজ যেন আলোর দিকে অগ্রসর হতে পারছে না। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা উত্তর দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। অথচ দেশের এক শ্রেণির মানুষ নারীকে দেখে আসছে ভোগ্যপণ্য হিসেবে। যার কারণে সমাজে নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না। কুপমন্ডুকতা যেমন আমাদের সমাজকে দিন দিন গ্রাস করছে, তেমনি নারীর ক্ষেত্রেও যেন সমাজ দিন দিন আরও নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। নিষ্ঠুরতার বলি হচ্ছে নারী। কোনভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছে না। এই চিত্র না বদলালে নারীদের রক্ষা করা যাবে না। এ জন্য সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।