উদ্যোক্তা তৈরিতে এগিয়ে আসুন

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পিএম, ২৭ মে ২০২১

আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তির তুলনায় চাকরির বাজার ছোট। এখানে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। একটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিবছর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য তৈরি হচ্ছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ উচ্চশিক্ষিত তরুণ। অথচ এদের সবার সুযোগ ঘটছে না, সবাই প্রত্যাশিত চাকরি পাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তেমনি বাড়ছে এই তরুণদের মাঝে হতাশা। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রভাবে এই সংকট আরও বেড়েছে। গতবছর করোনা মহামারী শুরুর পরেই মানুষ সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেয় ঘরে। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে জীবনযাত্রা। থমকে যায় অর্থনীতির চাকা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তো দূরের বরং কর্মক্ষম অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন। অনেককেই চাকরি হারাতে হয়। উৎপাদন ব্যবস্থা তার স্বাভাবিক গতি হারানোর কারণে এর প্রভাব পড়তে থাকে সবখানেই। এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশেই নয়। পৃথিবী জুড়েই করোনার প্রকোপে অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। মহামারীতে থমকে যায় চাকরির বাজারও। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি খাতেই চাকরির বাজার সবচেয়ে বড়।

 কিন্তু করোনার প্রকোপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়। এতে করে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে। আর এ বিষয়েই  জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি তরুণদেরকে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী চাকরির পেছনে না ছুটে সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘরের পাশের পরিত্যক্ত জলাশয়ে মৎস্য চাষের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই যদি মৎস্যখামার করে মাছ উৎপাদন করে এবং বাইরে বিক্রি করে, তাহলে সে পয়সা পেতে পারে। যুবসমাজের জন্য আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংক করেছি। সেখানে থেকে জামানত ছাড়াও ঋণ নেওয়া যেতে পারে। সেই ঋণ নিয়ে যে কেউ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, কাজ করতে পারবে।’ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রতিযোগিতার বিশে^ তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। পড়ালেখা শিখে তাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো শিখতে হবে। পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে তাদের নিজেদেরই উদ্যোক্তা হবার পথে এগিয়ে আসতে হবে।

  যতো বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হবে, তত বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে । এতে করে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যেমন কমবে তেমনি আমাদের অর্থনীতির চাকাও সচল থাকবে। শিক্ষিত তরুণরা যদি নিজেরাই এগিয়ে আসে, তা তাদের আত্মমর্যাদাশীল হয়ে ওঠার পথেও সহায়ক হবে।  সরকার তরুণদের ব্যবসা ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। আমরা মনে করি তরুণদের এই সুযোগ গ্রহণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মাছ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। একসময় আমাদের মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমান সরকারের হাত ধরে এখন মাছের উৎপাাদন ৫০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। প্রধানমন্ত্রী তার আহ্বানে সারা দেশে প্রতিষ্ঠিত ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার ওপর সরকারের  গুরুত্ব দেবার কথা বলেছেন।

 সেইসঙ্গে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেন মৎস্যজাতীয় পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাত করা যায়, সে সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও জানিয়েছেন। মাছে-ভাতে বাঙালি। আমাদের এই স্লোগানকে বাস্তব রূপ দিতে উদ্যোক্তারাই বড় ভূমিকা পালন করছে। খাল-বিল, নদী-নালার দেশ বাংলাদেশ। দেশের শত শত নদী এবং খাল-বিল জলাধারগুলোও সরকারের তরফ থেকে  সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে আরও বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রাপ্ত সকল সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণরা এগিয়ে আসবে নিজের ভাগ্যোন্নয়নে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকেও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে যথাযথ ভূমিকা রাখা হবে বলেই আমরা আশা করি।