গার্মেন্টসে দুর্দিন কেটে যাচ্ছে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাংলাদেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে করোনাকালীন বিপর্যয় পেছনে ফেলে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুরো বিশ্বই এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি। এতে মানুষের জীবন যাপনের স্বাভাবিকতাই শুধু ব্যাহত হয়নি, কার্যত সব খাতেই ধস নামে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে অনেক কোম্পানি চীন ছাড়াই আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী। আর পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের অনেকে এখনো মনে করছেন যে, আমেরিকার বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানিতে ভাগ বসানোর একটি ভালো সুযোগ সামনে আসতে পারে। পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী জানা গেলো। করোনার দু:সময় থেকে বের হচ্ছে পোশাক খাত। বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থ বছরের শেষ চার মাসে সেই আভাস মিলেছে। তবে গত জুলাইয়ে রপ্তানি খানিকটা ধাক্কা খায়।

পরের মাসেই অবশ্যই আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে শীর্ষ রপ্তানি আয়ের এই খাত। চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরের দ্বিতীয় মাস আগষ্টে ১৭৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের আগস্টে ২৪৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে গত মাসে ৩৩৮ কোটি ডলারের বা ২৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। গত আগস্টে ২৯৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এ বিষয়ে তৈরি পোশাক-শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, গত জুলাইয়ে ঈদ ও লকডাউনের কারণে অনেক ক্রয়াদেশের পণ্য সময় মতো জাহাজীকরণ সম্ভব হয়নি। সে জন্য গত মাসে রপ্তানি বেড়েছে। তবে আমাদের আশা, সামনের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি থাকবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে রপ্তানি আরও বাড়বে। রপ্তানিতে মাস হিসেবে আগস্ট ভালো করলেও সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে। এই সময়ে ৬৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরে একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৩১ শতাংশ কম। মূলত, গত জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ১১ শতাংশ কমে যাওয়ায় আগস্ট শেষেও সেই প্রভাব রয়ে গেছে। মোটর রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ পোশাক থেকে এসেছে। আগস্টে রপ্তানি হওয়া ২৭৫ কোটি ডলারের পোশাকের মধ্যে ৫৮ শতাংশ বা ১৬০ কোটি ডলার এসেছে নিট পোশাক থেকে, আর নিটের রপ্তানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। তার বিপরীতে ওভেন পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

উদ্যোক্তাদের আশাবাদ করোনা পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত যে লাভবান হবে এমন আলামত ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা চীনের বদলে বিকল্প অন্যান্য দেশের দিকে দৃষ্টি দেওয়ায় লাভবান হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসকালে অচলাবস্থা কেটে যাওয়ার পর বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক কেনার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সাড়া দিচ্ছেন। ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ। ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষিতে পোশাক শিল্প মালিকরা যাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে না ওঠেন সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাস শুরুর পর অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারি মোকাবিলা করে ইউরোপের দেশগুলো যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না য্ক্তুরাষ্ট্র। করোনা পরবর্তী বিশ্ব বাণিজ্যে চীনকে এড়ানোর চেষ্টা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। ফলে যেসব অর্ডার চীনে যাওয়ার কথা তার একাংশ যাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোয়। এর ফলে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশও লাভবান হবে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ লাখ মানুষ কর্মরত। দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক। এ খাতের সমৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে লাভবান করবে। যাদের শ্রমে-ঘামে এই শিল্প দাঁড়িয়ে আছে, বিশ্বে নন্দিত হয়েছে, তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বা সুরক্ষাসহ চাকরির নিরাপত্তা মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।